সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে সরকার সবকিছু যাচাই–বাছাই করে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির এক অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সবকিছু যাচাই–বাছাই করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটা নেবে, এই ভরসাটুকু প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার ওপরে রাখতে হবে। আমরা একদিকে যেমন জনদাবিকে গুরুত্ব দেব, একই সঙ্গে কেউ অন্যায়ের শিকার হোক, সেটাও চাইব না। সুতরাং বিষয়টা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কী করণীয় আছে, সেটা সরকার যথাসময়ে নেবে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ১২৩-এর (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে হওয়ার কথা, যেদিন পদত্যাগ করেছেন ওই দিন হতে।’
পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রায় কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আইনগত বাধা আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ওটা হোম মিনিস্ট্রি জানবে। এগুলো কনফিডেনশিয়াল বিষয়, এটা পাবলিকলি এভাবে আমরা বলতে পারব না। কার নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।’
পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইনকিলাব মঞ্চ। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দাবি উঠতেই পারে। ওনারা নিশ্চয় দাবি করতে পারেন। সেটা আইনসংগতভাবে আমরা দেখব, ওনাদের দাবি কতটুকু যৌক্তিক।’
গত শুক্রবার স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মিথ্যা মামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সেগুলোও যাচাই–বাছাই করছি। ইতিমধ্যে আমাদের সংসদে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩-এর (এ) ধারা সংযোজন করে আমরা আইন পাস করেছি। আপনারা তথ্য নেন, এই সরকারের আমলে এসে পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মামলা করেছে কি না? এক্সট্রাজুডিশিয়াল কিলিং হচ্ছে কি না? গুম হচ্ছে কি না? এই জায়গাগুলো যদি তথ্য পান, আমাদের জানান। আমরা ব্যবস্থা নেব।’
এর আগে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ১ হাজার ১০০ জন নবাগত আইনজীবীর পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে নথিভুক্ত উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে আমি বলছি, এই বিপুল অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে, যার সুফল দেশের মানুষ পায়নি। দেশের মানুষ এমন এক সময় অতিক্রম করেছে, যখন প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।’
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।