ঝিনাইদহে শিল্পী অনিল হাজারিকার পাশে চিকিৎসক প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহরে ওই চিকিৎসকের চেম্বারে
ঝিনাইদহে শিল্পী অনিল হাজারিকার পাশে চিকিৎসক প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহরে ওই চিকিৎসকের চেম্বারে

সহস্রাধিক আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা অনিল হাজারিকার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন হৃদ্‌রোগবিশেষজ্ঞ

বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষাকে গানের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী অনিল হাজারিকা (৭০)। সম্প্রতি তাঁর অসুস্থতার খবর প্রথম আলোয় প্রকাশিত হওয়ার পর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের হৃদ্‌রোগবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক প্রসেনজিৎ বিশ্বাস।

অনিল হাজারিকা মাগুরার শালিখা উপজেলার ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের তিলখড়ি গ্রামের বাসিন্দা। ২ জুন প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘সহস্রাধিক আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা অনিল হাজারিকা চিকিৎসার জন্য চান সরকারি সহায়তা’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে তাঁর জীবনসংগ্রাম ও অসুস্থতার বিষয়টি উঠে আসে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অনিল হাজারিকা অসংখ্য আঞ্চলিক গান রচনা ও পরিবেশন করেছেন। তাঁর গান বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনেও প্রচারিত হয়েছে। বিভিন্ন পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি। প্রায় ১ হাজার ৩০০ আঞ্চলিক গানের এই রচয়িতা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে হৃদ্‌রোগে ভুগছেন। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পেরে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন এবং সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছিলেন।

সংবাদটি নজরে আসার পর মানবিক উদ্যোগ নেন প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনিল হাজারিকাকে ঝিনাইদহে তাঁর চেম্বারে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন এবং সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে অনিল হাজারিকার সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে সম্প্রতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাস লেখেন, ‘মানবিকতার ডাক উপেক্ষা করতে পারিনি। একজন হৃদ্‌রোগবিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তাঁর (অনিল হাজারিকা) পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছি এবং সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় হৃদ্‌রোগ চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করব।’

প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদটি দেখে মর্মাহত হয়েছিলেন জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, একজন শিল্পীর অসহায় অবস্থায় পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্বের অংশ। অনিল হাজারিকার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ বিনা মূল্যে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ভাষ্য, ‘আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে শিল্পীদের অবদান অপরিসীম। তাঁদের দুঃসময়ে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।’

প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনিল হাজারিকা বলেন, ‘সংবাদপত্রের কল্যাণে কিছুটা হলেও উপকার পেয়েছি। একজন চিকিৎসক চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। এতে আমি খুশি।’