ঈদের কেনাকাটা করে বাড়িতে ফেরা হলো না কবিরের

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তরুণকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের কেনাকাটা করে খালাতো ভাই শাহিন আলমকে (১৮) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফিরছিলেন কবির হাসান (১৯)। পথে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ শহরে যাত্রীবাহী একটি বাসকে অতিক্রম করতে গিয়ে তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন কবির। মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে আরোহী শাহিন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে নবাবগঞ্জ-বিরামপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কবির হাসান রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মানিকবেড়া কুঁড়েরপর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি মিঠাপুকুরের গোপালপুর টেকনিক্যাল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে আহত শাহিন আলম নবাবগঞ্জের রাখবেন্দ্রপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। সম্পর্কে তাঁরা পরস্পরের খালাতো ভাই।

পুলিশ ও আহত তরুণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে বিরামপুর থেকে রেখা পরিবহন নামের ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নবাবগঞ্জ শহর অতিক্রম করছিল। এ সময় ওই দুই তরুণ বিরামপুর শহর থেকে মোটরসাইকেলে নবাবগঞ্জ শহরের দিকে আসছিলেন। পথে নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর পেছন থেকে বাসটি অতিক্রম (ওভারটেক) করার সময় মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক কবির হাসান ও আরোহী শাহিন আলম সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের দুজনকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কবিরকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহত শাহিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাস ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসের চালক ও চালকের সহকারী পালিয়ে গেছেন।