চট্টগ্রামে আদালতে জামিন শুনানির সময় অসংলগ্ন কথা বলা ও অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগে এক আইনজীবীর ডোপ টেস্টের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই আইনজীবীর নাম শাহেদুল হক। গত বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা এ নির্দেশ দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হালিশহর থানার একটি নালিশি মামলার আসামি এমরান চৌধুরীর জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী শাহেদুল হক। তবে শুনানি শুরু করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী শ্যামলী চৌধুরী। তখন আদালত জানতে চান, বাদীপক্ষের আইনজীবী আসামির জামিনের শুনানি করতে পারেন কি না।
এ সময় শ্যামলী চৌধুরী আদালতকে বলেন, আসামির আইনজীবী শাহেদুল হক আদালতে আসতে চাইছেন না। তাই তিনি জামিনের শুনানি করতে চান। এ ছাড়া আসামির জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
আদালত বলেন, জামিনের শুনানিতে আসামির আইনজীবীর উপস্থিতি প্রয়োজন। পরে বুধবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে শাহেদুল হক আদালতে ঢোকেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শুনানির সময় তিনি অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ছিলেন এবং বলেন, ‘আসামি ভুল করেছে আর ভুল করবে না। আদালতের নিকট জামিন চাই।’
আদেশে বিচারক আরও উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষ আসামির জামিনে অনাপত্তি দিয়েছে—এটি স্বাভাবিকভাবে বলার কথা। কিন্তু শুনানির সময় আইনজীবী শাহেদুল হকের কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল এবং তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদও স্বাভাবিক ছিল না। এ অবস্থায় তিনি মদ্যপান করেছেন বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, আদালত এক আইনজীবীর ডোপ টেস্টের নির্দেশ দিয়েছেন। এখনো তাঁরা এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন পাননি।