
এবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ‘পুনরুদ্ধারের ব্যানার’ টানানো হয়েছে। আজ শনিবার ভোরে গোয়ালন্দ বাজার প্রধান সড়কসংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে যুবলীগের কয়েকজন কর্মী ব্যানারটি টানান।
গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলামের নামে ব্যানারটি টানানো হয়। ব্যানারের ডান পাশে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিপরীত পাশে শেখ মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজনের ছবি আছে। ব্যানারে লেখা ‘গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় পূর্ণ উদ্ধার (পুনরুদ্ধার) করা হলো’। নিচে আশরাফুল ইসলামের নাম ও দলীয় পরিচয় লেখা আছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যানার টানানোর ১ মিনিট ১২ সেকেন্ড ও ২৮ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দুজন তরুণকে কার্যালয়ের ভেতর শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি দেয়ালে টানাতে দেখা যায়। কার্যালয়ের বাইরে একটি ব্যানার টানানো হয়েছে। তরুণদের একজনের নাম শেখ সুরুজ। তিনি পৌর যুবলীগের কর্মী।
শেখ সুরুজ মুঠোফোনে বলেন, ‘যুবলীগ ভালোবাসি বলে গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ও পৌর যুবলীগের কর্মী হিসেবে আমার নেতৃত্বে আজ ভোরে ব্যানার টানানো হয়েছে। আমরা ৭ থেকে ৮ জন আজ ২১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টানিয়ে দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করলাম।’
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল সাতটার দিকে খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ও ভেতরে কোনো ব্যানার বা ছবি পাইনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার ভোরের কোনো এক সময় জেলার পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ‘উদ্বোধনী’ ব্যানার টানানো হয়। পাংশা বাজারের প্রধান সড়কসংলগ্ন টেম্পোস্ট্যান্ড দলীয় কার্যালয়ে ব্যানারটি টানানো হয়। সেখান থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে সাবেক রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের বাড়ি।
ব্যানারের এক পাশে শেখ মুজিবুর রহমান ও সজীব ওয়াজেদ জয় এবং অন্য পাশে শেখ হাসিনা ও জিল্লুল হাকিমের ছবি ছিল। ব্যানারে মাঝখানে বড় অক্ষরে শুভ উদ্বোধন এবং পাশে বড় করে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জিল্লুল হাকিমের ছেলে মিতুল হাকিমের ছবি দেওয়া ছিল।
তার আগে গত বুধবার ভোরে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টানানো হয়। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টানানো হয়। ব্যানারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল রানার ছবি ছিল।