মুষলধারে বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটু, কোথাও বুকসমান পানি জমেছে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সড়কে। আজ দুপুরে নগরের জুবিলী রোডের তিন পুলের মাথা এলাকায়
মুষলধারে বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটু, কোথাও বুকসমান পানি জমেছে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সড়কে। আজ দুপুরে নগরের জুবিলী রোডের তিন পুলের মাথা এলাকায়

চট্টগ্রাম নগর

বৃষ্টিতে সড়কের কোথাও হাঁটু, কোথাও বুকসমান পানি, ভোগান্তিতে মানুষ

টানা বৃষ্টিতে আবারও পানির নিচে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি সড়ক। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা।

নগরের প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথা, কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা গেছে প্রবর্তক মোড় এলাকায়।

দুপুরের দিকে প্রবর্তক মোড়ের বড় অংশ ডুবে যায় কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে। গতকাল সোমবার যেখানে হাঁটুপানি ছিল, আজ সেখানে পানি উঠে বুকসমান। ওই পানির ভেতর দিয়েই রিকশা চালিয়ে যাওয়ার সময় কথা হয় চালক মোহাম্মদ সাইফুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, খালের সংস্কারকাজ চলার কারণে কয়েক দিন ধরেই এখানে পানি জমছিল। বৃষ্টি হওয়ায় সেই পানি আরও বেড়ে গেছে। এখন চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

দোকানে ঢুকে পড়েছে পানি। তা সেচে বের করার চেষ্টায় দোকানি। আজ দুপুরে নগরের রেয়াজুদ্দিন বাজারে

সরেজমিনে দেখা যায়, বদনা শাহ মাজার গেট থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত পুরো সড়ক ডুবে আছে পানিতে। ওই অংশে হিজড়া খালের সম্প্রসারণকাজ চলছে। খালের মুখে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে খালের পানি উপচে সরাসরি সড়কে উঠে আসছে। পানির কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। সামান্য একটি অংশ পার হতে সময় লাগছে দীর্ঘক্ষণ। অবশ্য এ সড়ক এড়িয়ে চলছেন যানবাহনের চালকেরা।

পথচারীদের দুর্ভোগ দেখা গেছে আরও বেশি। কেউ জুতা হাতে নিয়ে ও কাপড় গুটিয়ে নেমেছেন পানিতে। কেউ আবার সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে ভারসাম্য রেখে পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী ফারুক হাসান বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই প্রবর্তকে পানি জমে যায়। আজ তো অবস্থা আরও খারাপ। অফিসে যেতে গিয়ে মনে হচ্ছে যুদ্ধ করছি।’

বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা। আজ দুপুরে নগরের তিনপুলের মাথা এলাকায়

একই চিত্র তুলে ধরলেন কলেজছাত্রী ইসরাত জাহান। তিনি বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে হাঁটা যাচ্ছে না। পানি এত নোংরা যে নামতেও ভয় লাগে। কিন্তু অন্য কোনো পথ নেই। বাধ্য হয়েই নামতে হচ্ছে।’

যানবাহনের চালকদের জন্যও পরিস্থিতি কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়। পানিতে ডুবে যাচ্ছে গাড়ির চাকা, কোথাও কোথাও ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুল মালেক বলেন, ‘সকাল থেকে শহরের অনেক জায়গায় ঘুরেছি। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও গোড়ালিসমান। পানি বেশি থাকলে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। যাত্রীরাও উঠতে চায় না। এতে আয়ও কমে যায়, ভোগান্তিও বাড়ে।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফিরতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। আজ বেলা দেড়টার দিকে নগরের তিন পুলের মাথা এলাকায়

নগরের আমতলের তিন রাস্তার মাথা এলাকায়ও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও নালা উপচে পানি সড়কে উঠেছে, আবার কোথাও পানি নামার পথ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা স্থায়ী হচ্ছে।