
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী এম এয়াকুব আলীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম। গতকাল শনিবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের পক্ষে এ ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোটের স্বার্থে চট্টগ্রাম-১২ আসনে এলডিপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে জামায়াতের প্রার্থী ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১২ ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসন দুটি এলডিপিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপির অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা এম এয়াকুব আলীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাননি। ২১ জানুয়ারি তাঁকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এর পরদিন উচ্চ আদালতে রিটে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান।
এয়াকুব আলীর আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, তা আইনসম্মত ছিল না। আদালতের রায়ে সেই অন্যায়ের অবসান ঘটেছে। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে এ আদেশ দেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেলে আইনিভাবে নির্বাচন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোটের ব্যালটে এলডিপি ও জামায়াত—দুই দলের প্রতীক থাকবে। জামায়াতের দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও এলডিপির দলীয় প্রতীক ছাতা।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-১২ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, প্রার্থী একজন বেড়েছে, তিনি এলডিপির। প্রত্যাহারের এখন সুযোগ নেই আর।
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ঐক্যের সঙ্গে শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ লেবার পার্টি যুক্ত হয়। এর ফলে জোটটি ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে পরিণত হয়েছে। এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বের হয়ে গিয়েছিল।