সিলেটের জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। রোববার বিকেলে
সিলেটের জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। রোববার বিকেলে

সিলেটে জেলা প্রশাসককে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহার করার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে ‘সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। কর্মসূচিতে বক্তারা ডিসির প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে তাঁকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি হয়। এ সময় নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে বক্তারা সিলেটের উন্নয়ন ও সুশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিসির বদলি বাতিলের দাবি জানান।

এর আগে বিকেলে ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের কারণ কিংবা নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, এর উল্লেখ নেই।

এদিকে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জেলা প্রশাসক সিলেটে দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। সিলেটবাসীর বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিল। অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার কণ্ঠস্বরকে থামাতেই ডিসিকে বদলি করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটই তাঁকে সিলেট থেকে সরাতে আড়ালে কাজ করেছে।

তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে নানা ঘটনায় আলোচিত ছিলেন সারওয়ার আলম। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে জেলা প্রশাসকের কিছু উদ্যোগ আলোচিত-সমালোচিত হয়। এর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিকদের একটা অংশও নানা কারণে তাঁর বিরোধী ছিলেন।

একই সূত্র জানায়, ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।

মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ
এদিকে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ৬৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। রোববার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিবৃতিতে মাজারে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ঐতিহ্য ও মাজার সংস্কৃতিবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই দরগাহে এ ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ স্বাধীন বাংলাদেশে অতীতে কখনো দেখা যায়নি। এই ঘটনা দরগাহ ও মাজার সংস্কৃতিবিরোধী একটি বিশেষ মহলের অভিসন্ধি পূরণে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা জনমনে তীব্র সংশয় ও আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে সই করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন আহমেদ, প্রবীণ আইনজীবী তবারক হোসেন, সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বাবরুল হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত এআইজি সৈয়দ বজলুল করিম, প্রবীণ রাজনীতিবিদ বেদানন্দ ভট্টাচার্য প্রমুখ।