
ঈদের ছুটিতে বেড়ানোর স্থান হিসেবে কক্সবাজারের বিকল্প তৈরি হয়নি এখনো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য এটি। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের বেশ কয়েক দিন আগে থেকে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।
কক্সবাজারের হোটেলমালিকেরা বলছেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন ২২ মার্চ থেকে পর্যটকেরা আসবেন। ২৯ মার্চ পর্যন্ত টানা ৮ দিন কক্ষ বুকিং দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৯ লাখ পর্যটক আসবেন এ সময়ে। পর্যটকদের রাত যাপনের জন্য শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস, কটেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে হোটেলগুলোতে কয়েক শ পর্যটক রয়েছেন, এ কারণে পুরো সৈকত ফাঁকা।
কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান প্রথম আলোকে বলেন, আগামীকাল শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিন পর্যটকের আগমন ঘটে না। তবে ঈদের পরদিন; অর্থাৎ ২২ মার্চ থেকে সৈকতে পর্যটকের সমাগম ঘটবে। এদিন অন্তত ৭০-৮০ হাজার পর্যটক আসবেন। পরদিন ২৩ মার্চ থেকে দৈনিক এক লাখ পর্যটক আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ হিসাবে ঈদ–পরবর্তী ৮ দিনে ৯ লাখের বেশি পর্যটক আসবেন। তাতে পবিত্র রোজার মাসে বন্ধ থাকা দোকানপাট-রেস্তোরাঁসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে চাঙা ভাব ফিরে আসবে।
মুকিম খান বলেন, গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত তারকা মানের ৩০টির বেশি হোটেল-রিসোর্টে ৯৫ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আর সাধারণ মানের পাঁচ শতাধিক হোটেল গেস্টহাউস, কটেজের ৭০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। গড় হিসাবে ৮০ শতাংশ কক্ষ ভাড়া হয়ে গেছে।
রোজার মাসে পর্যটক টানতে হোটেলকক্ষের ভাড়ার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ঈদের পরদিন থেকে সেই ছাড় প্রত্যাহার করে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসের দৈনিক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৬৭ হাজারের মতো।
ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকদের বরণ করে নিতে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। গত বুধবার সুগন্ধা সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, সৈকতে কিটকট ব্যবসায়ীরা চেয়ার মেরামত করছেন। বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় চলছে ধোয়া-মোছার কাজ। তবে বিপুল পর্যটকের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকা লাইফ গার্ডের সংখ্যা বাড়েনি।
সি-সেফ লাইফ গার্ডের ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, সৈকতের কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটারে লাইফ গার্ডের ২৭ জন কর্মী থাকলেও দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ারটেক, বাহারছড়া, টেকনাফ সৈকতে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো কোনো লাইফগার্ড নেই।
গত বুধবার বিকেলে শহরের কলাতলী ও সুগন্ধা সড়কের বেশ কয়েকটি হোটেলে গিয়ে দেখা গেছে, সংস্কার ও রঙের কাজ চলছে। একটি হোটেলের কর্মচারী মোহাম্মদ আলম বলেন, তাঁর হোটেলে ২৯ জন কর্মচারী ছিলেন। রোজার প্রথম দিন থেকে ২৬ জনকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট ৩ জন হোটেলে আছেন। ঈদের দিন বিকেলে ছুটিতে থাকা কর্মচারীরা সবাই ফিরে আসবেন। পরদিন থেকে সবাই ব্যস্ত থাকবেন পর্যটকদের দেখভালে।
সৈকতে লাবণী পয়েন্টে দৃষ্টিনন্দন তারকা হোটেল কল্লোল। এই হোটেলে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ আছে ১৪০টির মতো। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে টানা ৬ দিন হোটেলটির ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। তারকা হোটেল সি-গাল, জলতরঙ্গ, কক্স-টু ডে, সায়মান বিচ রিসোর্ট, মারমেইড বিচ রিসোর্ট, ওশান প্যারাডাইস, বে-ওয়াচ, রয়েল টিউলিপসহ অন্তত ৩০টি হোটেল-রিসোর্টেও ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে গড়ে অগ্রিম বুকিং হয়েছে ৮০ শতাংশ।
মেরিন ড্রাইভের প্যাঁচারদ্বীপের পরিবেশবান্ধব ইকোট্যুরিজমের মারমেইড বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক ইয়াসির আরাফাত রিশাদ বলেন, ঈদের পরবর্তী ৮ দিন তাঁদের রিসোর্টে ৯৫ শতাংশ কটেজ অগ্রিম বুকিং করা আছে।
রোজার মাসে শহরের পাঁচ শতাধিক রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল। ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকদের জন্য সব রেস্তোরাঁ প্রস্তুত করা হয়েছে উল্লেখ করে কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল বলেন, পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়ে কোনো রেস্তোরাঁ যাতে খাবারের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করতে না পারে, এ ব্যাপারে তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খাবারের টেবিলে মূল্যতালিকা রাখা থাকবে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুস শুক্কুর বলেন, ঈদের ছুটির অন্তত ৮ দিনে ১০ লাখ পর্যটক আশা করা হচ্ছে। তখন হোটেল, রেস্তোরাঁ, ৩ হাজারের বেশি দোকানপাট, শুঁটকি, সামুদ্রিক মাছসহ ১৩টি খাতে ৭০০-৮০০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।