
ঢাকার আশুলিয়ার প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইলের কারখানা চত্বরে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কাভার্ড ভ্যানে করে কারখানার জন্য গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার সম্পূর্ণ অনিরাপদ বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তারা চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
আজ সোমবার বেলা পৌনে একটার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক (জোন-৪) হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা আমাদের দৃষ্টিতে নিরাপদ নয়। ঘটনা খতিয়ে দেখতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঢাকার সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামানকে সভাপতি করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলে ১০ থেকে ১২টি কাভার্ড ভ্যান ছিল। পরে কয়েকটি ভ্যান সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছিলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে সিলিন্ডারবাহী ৯টি কাভার্ড ভ্যান পেয়েছেন। সব কটি ভ্যানের সিলিন্ডার গ্যাসভর্তি ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাফিজুর রহমান আরও বলেন, প্রতিটি কাভার্ড ভ্যানে ৯০ থেকে ১০০টি করে সিলিন্ডার ছিল। এভাবে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডার রাখার বা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা নয়। কারখানাটির সেফটি প্ল্যান যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এভাবে গ্যাস ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে অনিরাপদ।
গতকাল রোববার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানা চত্বরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করে। এ ছাড়া কারখানার অদূরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত হন আরও এক নারী। আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে আহত ২৫ জনকে নেওয়া হয়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় গতকাল রাতেই তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কারখানা চত্বরে যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছিল, সেখানে এলোমেলোভাবে সিলিন্ডারভর্তি কাভার্ড ভ্যানগুলো পড়ে আছে। কয়েকটি পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন স্পষ্ট। আশপাশের উৎসুক জনতা কারখানার প্রাচীরের বিভিন্ন স্থানের ছিদ্র দিয়ে এবং ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরের পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করছেন। তবে গণমাধ্যমকর্মী ও লোকজনকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণে কয়েকটি সিলিন্ডার ও লোহার টুকরা আশপাশের বিভিন্ন ভবন, বাসাবাড়িতে উড়ে গিয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী অনেক দোকানপাটের কাচের জানালা ভেঙে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন স্থানীয় বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ধ্যার একটু পর দোকান থেকে চা খেয়ে বাসার দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ এবং কাঁপনি অনুভব করি।’ এরপর পুরো এলাকা আগুনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে তিনি দৌড়ে বাসায় চলে যান।