
পুলিশের ইউনিফর্ম পরে কক্সবাজার শহরের ব্যস্ততম স্টেডিয়াম এলাকায় যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করছিলেন তিনি, হাতে হ্যান্ডকাফও ছিল। পাশের হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে আসা-যাওয়ার যানবাহন থামিয়ে লোকজনকে হয়রানি করছিলেন। আদায় করছিলেন টাকা। হঠাৎ টহল পুলিশের নজরে পড়ে যান তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা গেল, ওই যুবক সড়কে পুলিশের পোশাক পরে অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি করছিলেন।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজার শহরের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামের পাশে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন মো. আতিক উল্লাহ আল মামুন (৪০) নামের ওই ব্যক্তি। স্টেডিয়ামের পাশে ২৫০ শয্যার কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, ইউনিয়ন হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, আল ফোয়াদ খতিব হাসপাতালসহ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত রোগী বহনকারী যানবাহনের চাপ থাকে সড়কটিতে। সেখানে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ধরা পড়েন আতিক উল্লাহ।
পুলিশ জানায়, আতিক উল্লাহর কাছ থেকে পুলিশের ইউনিফর্ম, একটি হ্যান্ডকাফ এবং নাম লেখা দুটি ব্যাজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ব্যাজ দুটিতে ‘সাইফুল ইসলাম মিজান’ ও ‘মো. মিজান’ নাম লেখা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামুনের বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ডিগলিয়া গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও লোকজনের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার মামুন পুলিশের পোশাক পরে লোকজনের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের পাশাপাশি অনৈতিক সুবিধা নিতেন। আজ রোববার দুপুরে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের ধারায় মামলা হয়েছে। তাঁকে কক্সবাজার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, মামুন কীভাবে পুলিশের পোশাক ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করতেন, তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মামুনের চলাফেরা ছিল অনেকটা ‘আসল পুলিশ’–এর মতোই। পুলিশের পোশাকে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন তিনি। সাধারণ মানুষ তাঁকে প্রকৃত পুলিশ সদস্য বলেই মনে করতেন।