
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নাওজোর ও টেকনগপাড়া এলাকায় দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চার তরুণ নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোর এলাকায় এবং এর আগে সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টেকনগপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
টেকনগপাড়া এলাকায় নিহত দুই তরুণ হলেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কাকুরিয়া এলাকার আবদুস সালামের ছেলে জাকির হোসেন (২৩) ও একই জেলার গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা আবু হানিফ ফকিরের ছেলে আবু তায়েব মুন (২৫)। নাওজোর এলাকায় নিহত তরুণেরা হলেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বাঘদানা গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে রিসান হোসেন (২৩) ও একই গ্রামের মইন উদ্দিনের ছেলে জাকারিয়া (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাতে রিহসান ও জাকারিয়া একটি অটোরিকশায় চড়ে নাওজোর এলাকা থেকে ভোগরা এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে যাত্রীবাহী একটি বাস পেছন থেকে ওই অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। রিসান ও জাকারিয়া গাজীপুরের বগুড়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় জাকির হোসেন ও আবু তায়েব মোটরসাইকেল নিয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকা থেকে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। তাঁদের মোটরসাইকেলটি ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের টেকনগপাড়া এলাকায় পৌঁছালে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে আবু তায়েব ও জাকির হোসেন মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে। নিহত দুজনের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মালেক খসরু বলেন, আবু তায়েব ও জাকির হোসেন দুজনেই চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার এবিসি কনস্ট্রাকশন কেমিক্যাল লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। এ ঘটনায় আবু তায়েবের মা ফেরদৌসী বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এ ছাড়া নাওজোর এলাকায় দুর্ঘটনায় রিসান ও জাকারিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁদের স্বজন হুজুর আলী বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।