
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের অন্তত পাঁচ নেতা আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় উপজেলার গোপালদী বাজারে হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার পর আওয়ামী লীগের কর্মীরা এক বিএনপি নেতার দোকানে আগুন দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে আগুনের ছবি তুলতে গিয়ে দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি হারাধন চন্দ্র মারধরের শিকার হয়েছেন। বিএনপির আহত নেতারা হলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, গোপালদী পৌরসভা বিএনপির সভাপতি শামসুল হক, আড়াইহাজার পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান মোল্লা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহাগ। আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সকালে উপজেলা বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গোপালদী বাজার বালুর মাঠে এসে পৌঁছালে দেখা যায়, মাঠের প্রবেশপথসহ বিভিন্ন জায়গায় খালি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। পরে সেখানেই মিছিল শেষ হয়। এ সময় হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা তাঁদের ওপর ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনির হোসেনের একটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেন। গোপালদী পৌরসভার মেয়র হালিম সিকদার হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে ইউসুফ আলী ভূঁইয়া অভিযোগ করেন।
এদিকে দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনার ছবি তুলতে গেলে দৈনিক সংবাদের আড়াইহাজারের প্রতিনিধি হারাধন চন্দ্র মারধরের শিকার হন। বিএনপির মিছিলে হামলাকারীরাই তাঁকে মারধর করেছে বলে হারাধনের অভিযোগ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির মিছিলে হামলার পর আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বাজারের একটি বাঁশের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেন। আমি আগুনের ছবি তুলতে গেলে, তাঁরা আমার মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। এ সময় তাঁরা আমাকে মারধর ও গালিগালাজ করেন।’
হামলার বিষয়ে জানতে গোপালদী পৌরসভার মেয়র হালিম সিকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গোপালদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গোপালদী বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত শোকসভা ও শোকমিছিল ছিল। সেখানে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাঁদের ধাওয়া দেন। তবে বিএনপির নেতা–কর্মীরাই দোকানে আগুন দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। সাংবাদিক মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, ওই সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁকে মুঠোফোন কেনার খরচ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বলেন, কোনো অনুমতি ছাড়াই বিএনপির নেতা–কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের উত্তেজনা দেখা দিলে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে। সাংবাদিক মারধরের বিষয়টি তাঁর জানা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।