ফরিদপুরে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট লোকদের সঙ্গে মত বিনিময়সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে
ফরিদপুরে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট লোকদের সঙ্গে মত বিনিময়সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে

সমতার ভিত্তিতে কূটনীতিক সম্পর্ক: শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক চায় সরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র নীতি সকল দেশের সঙ্গে সমমর্যাদা নিয়ে। সকল দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে, বন্ধুত্ব থাকবে, কিন্তু সেটা হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে এবং অবশ্যই বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে এক নম্বর গুরুত্ব দিয়ে সকল পররাষ্ট্র নীতি হবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্থিতিশীল ও সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করা।

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ জানান, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্থগিত থাকা ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত পুনরায় চালু করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

‎এর আগে সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে শামা ওবায়েদ নগরকান্দায় পৌঁছালে থানা প্রাঙ্গণে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তিনি লস্করদিয়ায় নিজ বাসভবনে গিয়ে তাঁর বাবা ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপির নেতা–কর্মীরা শামা ওবায়েদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

‘দল-মত দেখার দরকার নেই’

অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে দলীয় পরিচয়ের দিকে না তাকাতে প্রশাসনের লোকদের নির্দেশ দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, ‘দল-মত দেখার দরকার নেই। কেউ যদি দোষী হয়, সে বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত যে–ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনবেন। এটিই আমাদের সরকারের স্ট্যান্ড। নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবেন। সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।’

শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শামা ওবায়েদ। প্রশাসনের লোকদের তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমি আপনাদের সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি এখানে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বসিনি। আমরা যদি টিমওয়ার্ক করতে পারি, তাহলেই ফরিদপুর জেলাকে সুন্দর রাখতে পারব। আপনারা আমাকে সহকর্মী হিসেবে বিবেচনা করবেন। বেশির ভাগের কাছেই আমার ফোন নম্বর আছে। যেকোনো সমস্যা সরাসরি আমাকে জানাতে পারেন।’

রোজায় নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে শামা ওবায়েদ জানান, দ্রব্যমূল্য যাতে আর না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট আছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কারও কোনো বিশেষ পরামর্শ থাকলে তা দেওয়ার আহ্বান জানান এই প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রমজান মাসে জনগণ দলমত–নির্বিশেষে সুন্দরভাবে রোজা ও ঈদ পালন করবে, দ্রব্যমূল্য সহনীয় থাকবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে না। সেই সঙ্গে কোনো ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

শামা ওবায়েদ জানান, রমজান মাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের মনে শান্তি রাখা, যাতে তাঁরা সুন্দরভাবে রোজা পালন করতে পারে এবং ঈদ পালন করতে পারে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চোখে আঙুল দিয়ে একটি বিষয় দেখিয়ে দিয়েছেন, এই সরকার অনেক যুদ্ধের পরে, অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছে। জনগণেরও অনেক আশা এই সরকারের ওপর। সুতরাং এটাকে হেলাফেলা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বিশেষ করে মাদক নিয়ে ঘরে বসে কথা বললে হবে না। আমাদের কিছু স্ট্যাটেজিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যারা মাদক সেবন করে, তারা অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিম। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। শর্ট টার্মে অ্যাকশন দেখাতে হবে, পাশাপাশি লং টার্মে সামাজিক সচেতনতা চালিয়ে যেতে হবে।’

সভায় উপস্থিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যে নানান পরিবর্তনের কথা বলছি, সেই পরিবর্তন অবশ্যই হবে। আপনারা ইতিমধ্যে দেখেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিবর্তন নিজে থেকেই শুরু করেছেন। আমরাও চাই এই পরিবর্তনটা সর্বব্যাপী হোক। তবে মানুষের যেমন চাওয়া যে একটা সুইচ দিলে সব পরিবর্তন হয়ে যাবে, এটা ঠিক না। তবে আবার পরিবর্তন যে হবে না, সেটাও না। পরিবর্তন অবশ্যই হবে। সবটুকু যদি অর্জন না–ও করতে পারি, অন্তত কিছুটা ভালো অর্জন করতে পারব।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ এস এম আলী আহসান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ও সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া প্রমুখ।