
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া চার নবজাতককে মায়ের দুধ পান করানো হচ্ছে। হাসপাতালটির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্ক্যানু ইউনিটে থাকা নবজাতকদের আজ বুধবার সকাল থেকে অল্প করে মায়ের দুধ খাওয়ানো শুরু হয়।
৩৪ সপ্তাহে জন্ম নেওয়া ৪ নবজাতককে হাসপাতালের বিশেষ নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটে (স্ক্যানু) চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত তাদের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল।
ওই নবজাতকদের মা তিশা খাতুন রাজশাহী নগরের সিপাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী নয়ন ইসলাম। প্রসববেদনা উঠলে গত সোমবার বিকেলে তাঁকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চার সন্তানের জন্ম হয়।
চার নবজাতকের মধ্যে এক কেজি ওজনের একজনের অক্সিজেনও খুলে দেওয়া হয়েছে। সে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত চারজনের অবস্থাই স্থিতিশীল। তবে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।শেখ শামীম আহমেদ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চার নবজাতকের দুজনের ওজন এক কেজি করে। অন্য দুজনের ওজন যথাক্রমে ১ কেজি ১০০ গ্রাম ও ১ কেজি ৩০০ গ্রাম। নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নেওয়ায় তাদের ওজন প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে কম। সাধারণত ৩৮ থেকে ৪০ সপ্তাহে নবজাতকের জন্ম হয়। দেড় থেকে দুই কেজি ওজন হলে তাদের তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ধরা হয়।
হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ বলেন, প্রথমে শূন্য দশমিক ৫ মিলিলিটার করে মায়ের দুধ দেওয়া হচ্ছে। এটি পরীক্ষামূলকভাবে দেওয়া হচ্ছে; তারা মুখে খাবার নিতে পারছে কি না, তা দেখার জন্য। মুখে খাবার না দিলে নবজাতকদের পাকস্থলী শুকিয়ে যেতে পারে।
শেখ শামীম আহমেদ বলেন, চার নবজাতকের মধ্যে এক কেজি ওজনের একজনের অক্সিজেনও খুলে দেওয়া হয়েছে। সে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত চারজনের অবস্থাই স্থিতিশীল। তবে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। কারণ, এ ধরনের অপরিণত নবজাতকেরা জন্মের চার থেকে পাঁচ দিনের দিকে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।
জন্মের পর প্রথমে নবজাতকদের হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্ক্যানু ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।