
বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার সকাল ছয়টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪০।
একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪৭ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ২২৩। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ২০১৯ সালের আগে বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের ইতিহাস নেই। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আক্রান্ত হয়েছিলেন ১০ হাজারে বেশি রোগী। এরপর ২০২২ সালে পুনরায় প্রকোপ দেখা দিলে ১১ জনের মৃত্যু হয়। কিন্তু অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ২২৩ জন।
ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা শাহনাজ বেগম (৬৫), ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরিদা বেগম (৩৭) ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার শাহ আলম (৭০)। গতকাল দুপুর থেকে রাতের মধ্যে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন এবং মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্যজনের মৃত্যু হয়।
জুলাই থেকে বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মারাত্মক রূপ নেয়। জুলাইয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসেন ৪ হাজার ৮৬৭ জন। মৃত্যু হয় ৯ জনের। আগস্টে তা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আগস্টের ২৮ দিনে বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা আগের মাসের দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬৯৭। মারা গেছেন ২৯ জন। এর আগে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গু রোগী ছিলেন মাত্র ৪৩৩ জন। মৃত্যু হয়েছিল দুজনের।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, এবার প্রত্যন্ত গ্রামে ডেঙ্গুর বিস্তৃতি ঘটেছে। তাই কোনোভাবেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত যেসব রোগী মারা গেছেন, তার সিংহভাগ গ্রামের ও বয়স্ক। দেরিতে হাসপাতালে আনা এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ায় এবার মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এ জন্য জ্বর হলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরুর পরামর্শ দেন তিনি।