কোটি টাকা রাজস্ব, নেই উন্নয়ন

নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় হাটে পানি জমেছে। এর মধ্যেই চলছে গরু-ছাগলের কেনাবেচা। গতকাল রংপুরের তারাগঞ্জ পশুর হাটে
ছবি: প্রথম আলো

‘বাহে, একটা গরু কিনলে সরকারোক চান্দা দেই ৫০০ টাকা। প্রত্যেক হাটোত চার–পাঁচ শ গরু বেচা হয়। হাটবারে লাখ লাখ টাকা চান্দা পায়। বছরে কোটি কোটি টাকা সরকার পাওছে। তা–ও কেনে হামাক হাঁটুপানিত দাঁড়ে গরু বেচাবিক্রি করি নাগোছে।’ গতকাল শুক্রবার দুপুরে রংপুরের তারাগঞ্জ পশুর হাটে গরু কিনতে এসে হাড়িয়ারকুঠির ব্যবসায়ী বাবু মিয়া আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেন।

উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট রংপুরের তারাগঞ্জ। বছরে আড়াই কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় হয়। এর সিংহভাগ আসে পশু কেনাবেচা থেকে। কিন্তু উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এ হাটে। পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই হাটে পানি জমে থাকে। পুরো বর্ষা মৌসুমে হাটে কাদাপানিতে একাকার হয়ে থাকে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বৃষ্টি শুরু হয়। গতকাল সকালেও থেমে থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল। এতে হাটে হাঁটুপানি জমে যায়। গতকাল হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে পশু কেনাবেচা করতে হয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত তারাগঞ্জে হাটবাজারের সংখ্যা ১৮। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হাট তারাগঞ্জ। উপজেলার একমাত্র এই পশুর হাট বসে প্রতি সোম ও শুক্রবার। প্রতি হাটে চার থেকে পাঁচ শতাধিক পশু কেনাবেচা হয়। এ ছাড়া ধান, পাট, আলুসহ নানা রকম সবজি কেনাবেচা হয়। চলতি বছর ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল তারাগঞ্জ পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে গরু-ছাগল বিক্রি করতে আসা লোকজন এক হাতে পশুর রশি ও অন্য হাতে জুতা জোড়া নিয়ে হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে আছেন। কাদাপানি মাড়িয়ে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর–কষাকষি কেনাবেচা।

হাটে গরু বিক্রি করতে আসা ইকরচালী প্রামাণিকপাড়া গ্রামের ভোলা মিয়া বলেন, ‘দুই হাট ঘুরনু। এই পানির তকনে গরু বেচপার পারো নাই। ক্রেতা নাই ৬০ হাজার টাকার গরু ৫০ হাজার কয়। মিসছায়ানা ঝরি হইলে এটে হাটুসমান পানি জমি যায়। সরকার এত কিছু করে এই হাটটার পানি বের কইরার পারে না কেন?’

তিন দিন পর নাতনির বিয়ে। তাই হাঁটুপনিতেই গরু দরদাম করছিলেন কাশিয়াবাড়ি গ্রামের ইদ্রিস উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ছোট থাকি বুড়া হইনো এই হাটোত গরু কেনাবেচা করতে। ৫০ টাকার চান্দা এটে ৫০০ টাকা হইছে। কিন্তুক হাটের কোনো উন্নয়ন হয় নাই। নাতনির বিয়াও ওই তকনে পানিতে দাঁড়ে গরু কিনবার নাগোছে। কিন্তু এটে পচা পানি আর কাদাত দাঁড়ে থাকতে কষ্ট হওছে।’

হাটের ইজারাদার স্বপন চৌধুরী বলেন, তারাগঞ্জ বর্ষা শুরু হলে কাদাপানির জন্য গরু উঠে কম, কেনাবেচাও হয় না। এতে ইজারা আদায় অনেক কমে গেছে। বিষয়টি ইউএনও, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।

কুর্শা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফজালুল হক বলেন, হাটের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তাগুলোসহ হাটের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। পানিনিষ্কাশনের নালাগুলো পরিষ্কার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইউএনও রুবেল রানা বলেন, ‘বৃষ্টির পানি জমে তারাগঞ্জ পশুর হাটে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে তা খোঁজ নিয়ে পরিকল্পনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’