মা হাতিটির মৃত্যুর পর লোকালয়ে নেমে আসা হাতির পাল। গতকাল ভোরে
মা হাতিটির মৃত্যুর পর লোকালয়ে নেমে আসা হাতির পাল। গতকাল ভোরে

চোখে গুলি নিয়ে মৃত্যু হলো হাতিটির, মরদেহের পাশে শোকাতুর সঙ্গীদের গর্জন

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের পূর্ণগ্রাম এলাকায় চোখে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একটি মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। বন বিভাগের কর্মীদের ধারণা, প্রায় এক মাস আগে গুলিবিদ্ধ হয়েছে হাতিটি। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয়।

রামু উপজেলার পূর্ণগ্রাম এলাকাটি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী। শনিবার দুপুরে ওই এলাকায় স্থানীয় লোকজন দেখেন মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে রয়েছে মা হাতিটি। অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়া হাতিটি দাঁড়াতেও পারছিল না। এর পাশে একটি তিন বছর বয়সী হাতি শাবককে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শাবকটি বারবার চিৎকার করছিল। বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সেখানে যান কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ঈদগাঁও রেঞ্জের কর্মীরা।

বন বিভাগের ঈদগাঁও রেঞ্জের কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে পূর্ণগ্রামে গিয়ে দেখা যায় হাতিটির শারীরিক অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। সেটি নড়াচড়াও করতে পারছিল না। চিকিৎসার জন্য তখনই ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জনকে সংবাদ দেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে রাত হয়ে যাওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। তাই তাঁর দেওয়া ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী হাতিটিকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। তবে এর মধ্যেই রাত ১১টার দিকে হাতিটি মারা যায়।

উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, মা হাতিটির মৃত্যুর পর ১০-১২টি হাতির একটি পাল পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসে। মৃত হাতিটির পাশে বেশ কিছুক্ষণ ধরে ডাকাডাকি ও গর্জন করে হাতিগুলো। এরপর শোকাতুর হাতির পালটি আবার পাহাড়ে চলে যায়। হাতিটির মরদেহ গতকাল রোববার মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে এবং এ ব্যাপারে রামু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান বন কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন।

মৃত্যুর আগে লোকালয়ে চলে আসা গুলিবিদ্ধ হাতিটিকে শুশ্রূষা করা হচ্ছে

মৃত হাতিটির মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, মৃত হাতিটির বাঁ চোখে ১০ ইঞ্চি গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। ক্ষতস্থান থেকে কয়েকটি ছররা গুলি পাওয়া যায়। চোখের ভেতরে সিসার গুলির সংক্রমণে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘পাহাড়ে বিচরণের সময় হাতিটিকে স্থানীয়ভাবে তৈরি গাদাবন্দুক দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল।’

বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, দুই-তিন সপ্তাহ আগে তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়েছিলেন, একটি বন্য হাতি অসুস্থ হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন এবং কক্সবাজারে রামু ও ঈদগাঁও বনাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর সঙ্গে একটি শাবকও রয়েছে। তবে ওই সময় বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান চালিয়েও হাতিটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।