রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম শামা ওবায়েদ ইসলামের। বাবার উত্তরাধিকারী হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ। এর আগে দুটি সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি। তৃতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন ফরিদপুরের মেয়ে শামা ওবায়েদ।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শামা ওবায়েদ।
শামা ওবায়েদ ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর–২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর বাবা মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান এ সংসদীয় আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ওবায়েদ রহমান বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
শামা ওবায়েদ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে বিএনপির সহযোগী সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
এর আগে একই আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজয় পাননি। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ২১ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়েছেন।
জননেতা মরহুম ওবায়দুর রহমানের উত্তরসূরি শামা ওবায়েদ আজ মন্ত্রী হওয়ায় আমরা আশাবাদী—নগরকান্দা ও সালথার উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।তৈয়বুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ফরিদপুর জেলা যুবদল
স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ, বিশেষ করে বৃহত্তর ফরিদপুরের বিএনপির রাজনীতি সামাল দেওয়া, দলীয় নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখা এবং পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতা—এই কয়েকটি বিষয় তাঁর নির্বাচনী সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি নারীনেত্রী হওয়ায় এই এলাকার নারীদের একচ্ছত্র সমর্থন পেয়েছেন বলে মনে করেন দলীয় নেতা–কর্মীরা।
এদিকে তাঁর প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবরে ফরিদপুরের নগরকান্দা সদর বাজারে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ–উল্লাস করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা। মঙ্গলবার বিকেলে নেতা–কর্মীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান। বাজার এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৈয়বুর রহমান, নগরকান্দা উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোস্তফা মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মিষ্টি বিতরণকালে তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ বছর নগরকান্দাবাসী অবহেলা ও অনুন্নয়নের মধ্যে ছিল। রাস্তাঘাট, ব্রিজ–কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সবখানেই পিছিয়ে ছিল এই এলাকা। জননেতা মরহুম ওবায়দুর রহমানের উত্তরসূরি শামা ওবায়েদ আজ মন্ত্রী হওয়ায় আমরা আশাবাদী—নগরকান্দা ও সালথার উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।’
কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রিধারী শামা ওবায়েদ নির্বাচনী প্রচারণার সময় বাবার অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া এবং এলাকার শিক্ষা ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় উল্লেখ করা সবশেষ আয়কর রিটার্নের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে শামা ওবায়েদ ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা আয় করেছেন। বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭২১ টাকা। আয়কর রিটার্নে তাঁর প্রদর্শিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার ৮০৬ টাকা। তাঁর স্বামীর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ১১৬ টাকা। সন্তানের সম্পদের পরিমাণ ৪৮ লাখ ৮ হাজার ৩৬৩ টাকা।
এবারের হলফনামায় শামা ওবায়েদ অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির আর্থিক মূল্য দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। শামা ওবায়েদ বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।