
‘মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির এক সোনালি অর্জন। এ অর্জনের তুলনা আর কোনো কিছুর সঙ্গে চলে না। একাত্তরের চেতনা ধারণ ও লালন করে আমাদের দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে হবে।’ ফরিদপুরে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দীন আহমেদ এ কথা বলেন।
আজ মঙ্গলবার ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রথম আলো বন্ধুসভা। ফরিদপুর ছাড়াও আজ সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, নড়াইল, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, মাগুরা, মুন্সিগঞ্জ, বাগেরহাট, বরগুনা, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে মার্চ মাসজুড়ে দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। আজ ছিল এই আয়োজনের শেষ দিন।
ফরিদপুর
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘প্রথম আলো শুধু একটি পত্রিকা নয়; সামাজিক আন্দোলনের সৈনিক। প্রথম আলো চায় দেশ ও জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্য জেনে তোমরা যাতে প্রকৃত এবং দেশমাতৃকার আদর্শ সন্তান হয়ে দেশের সেবায় ভবিষ্যতে আত্মনিয়োগ করতে পারো।’
আরও বক্তব্য দেন ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজ কুমার বিশ্বাস ও সহকারী প্রধান শিক্ষক রাফেজা খাতুন। উপস্থাপনা করেন প্রথম আলো বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক অজয় দাস। পুরস্কার ঘোষণা ও ধন্যবাদ জানান প্রথম আলোর ফরিদপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক প্রবীর কান্তি বালা।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। যারা পুরস্কার পেয়েছে, তারা সবাই সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম প্রভাতী শাখার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রথম হয়েছে জারিফা রহমান, দ্বিতীয় তাহারাত তানজুম (তাসনিম), তৃতীয় মার্জিয়া ইসলাম (মায়া), চতুর্থ রাবেয়া আক্তার এবং পঞ্চম হয়েছে রাবেয়া আক্তার (মিম)।
অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করেন ফরিদপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক সহিদ উল্লা, সভাপতি জহির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সজীব দত্ত, সহসভাপতি মানিক কুণ্ডু, বইমেলা সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র মণ্ডল, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য সম্পাদক শ্যামল মণ্ডল, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক প্রান্ত ঘোষ, সদস্য দেবান্বিতা দাস, তাবাচ্ছুম বুশরা, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।
বরিশাল
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মিলনায়তনে সকালে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শুরু হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সরকারি ব্রজমোহন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম এম তারিকুজ্জামান বলেন, ‘একাত্তরে যাঁরা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন আমরা দায়িত্ব পালন করছি। ভবিষ্যতের দায়িত্ব তোমাদের। তোমাদের এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের উত্তরাধিকার হিসেবে দেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে ব্রজমোহন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ইতিহাস নয়, আমাদের জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ ও মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে কোনোভাবেই অবহেলা বা অসম্মান করা যাবে না। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং সেই চেতনা ধারণ করতে হবে।’
প্রথম আলো বন্ধুসভার বরিশাল জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তনুশ্রী কর্মকারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বন্ধুসভার সহসভাপতি নাঈম ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, সদস্য লাবিরা আক্তার ও মোসাদ্দিকা।
মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে প্রায় ৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এতে ১৩ জনকে পুরস্কৃত হয়। এতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হন যথাক্রমে বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী উৎসব বণিক, মো. নাইম ও শারমিন খানম।
ময়মনসিংহ নগরের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: প্রথম আলো
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ নগরের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার মা আমাকে মুক্তিযুদ্ধে ঠেলে দিয়েছিল, আমি তরুণ বলে। কেননা তরুণেরাই তো আগামীর দেশ। তোমরা যারা ছোট-নবীন, তোমরাও এক একজন যোদ্ধা। শুধু তা–ই নয়, তোমারও একটা একটা নতুন বাংলাদেশ। তোমাদের কাছেই এই মুক্তিযুদ্ধ আজন্ম জীবিত থাকবে।’
ময়মনসিংহ বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে ও ময়মনসিংহ বন্ধুসভার সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে নবম শ্রেণির মৌরিন জাহান, দ্বিতীয় নবম শ্রেণির সৈয়দা মাইমুনা মুস্তরা, তৃতীয় নবম শ্রেণির সিদরাতুল মুনতাহা, চতুর্থ অষ্টম শ্রেণির হুমাইরা জাহান শাকিরা এবং পঞ্চম হয়েছে অষ্টম শ্রেণির সিদরাতুল মুনতাহা খান।
ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও শহরের কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে সকালে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শুরু হয়। আজ সকাল নয়টা থেকে অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে আসতে শুরু করে। নিবন্ধন শেষে সকাল সোয়া ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের সূচনা হয়।
আয়োজনের উদ্বোধন করেন কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোতালেব হোসেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ মাসের সংগ্রামের ফসল এ দেশের স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালে যাঁরা আমাদের মুক্তির জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের আমরা কখনোই ভুলব না। তাঁদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখব। বন্ধুসভাকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন একটি আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই।’
ফলাফল ঘোষণার আগে প্রথম আলো ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাদ শাহামাদের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মজিবর রহমান খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লেখক ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ফারজানা হক (স্বর্ণা), মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডের সচিব আখতার হোসেন, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নুর করিম প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে শহরের ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১৭৬ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. জাওয়াদ, আদিত্য দেবনাথ, কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম, ফারহান সাদিক, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্বর্ণ রায়, বর্ণ রায়; সিএম আইয়ুব বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনন্যা রানী দেবনাথ ও ইকো পাঠশালা অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সামিন ইমাসার সেরা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে বই তুলে দেন অতিথিরা। সমাপনী বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন।
রাজবাড়ী
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজ মিলনায়তনে আজ অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড। এই আয়োজনে সহযোগিতা করেন রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সদস্যরা। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যে জাতি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানে না, সে জাতি নিজেই তার গৌরবকে নষ্ট করে ফেলছে। তাই তোমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে। তোমরা তোমাদের মেধা দিয়ে দেশকে নতুনভাবে সাজাবে এবং একদিন তোমরাই নেতৃত্ব দেবে।’
গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি ও প্রপার হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক অম্বরেশ চক্রবর্তী জীবনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের শেখ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান, সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, প্রথম আলোর রাজবাড়ী প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক, গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সভাপতি জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সফিক মণ্ডল।
অলিম্পিয়াডে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২০ মিনিটের পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব ফকির, একই কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী মায়া, তৃতীয় একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তরুণ মোল্লা এবং চতুর্থ হয়েছে যৌথভাবে গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইজা রাব্বী এবং সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এলমা খাতুন।
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গিলন্ড এলাকায় রাকিব আহমেদ উচ্চবিদ্যালয়ে আজ দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম আলো বন্ধুসভা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রথম আলোর মানিকগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি চাঁন মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সহসভাপতি জয়নুল আবেদীনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী, প্রথম আলোর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল মোমিন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন, সহকারী শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক ও সুফিয়া বেগম এবং চামটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থায় ছিলেন প্রথম আলো মানিকগঞ্জ বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান (শুভ)।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রহম আলী। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুকে বরণ করেই আমরাই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আজকে আমরা যে স্বাধীন দেশ পেয়েছি, তা এমনিতেই পাইনি আমরা। বহু ত্যাগ ও প্রাণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আমরা এই দেশ পেয়েছি। যে আদর্শ নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই আদর্শ ও চেতনা ধারণ ও লালন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে আমাদের অবস্থান থাকতে হবে।’
মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রাথমিক বাছাই শেষে ১৩ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তারা হলো, এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী শ্রেণির ইতি আক্তার, সুমন পোদ্দার ও ইয়াস আহমেদ; অষ্টম শ্রেণির আলো আক্তার ও সাজিম মোল্লা; নবম শ্রেণির সোহানা আক্তার, সুমন মিয়া, পাপিয়া আক্তার, চাঁদনী আক্তার ও সুবর্ণ মুস্তারিন; পুষ্প আক্তার এবং দশম শ্রেণির সিনথিয়া আক্তার ও আলিফা আক্তার। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা।
নড়াইল
নড়াইল শহরের শিব শংকর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে আজ সকালে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শুরু হয়। শুরুতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনা সভা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা।
প্রতিযোগিতা প্রথম স্থান অধিকার করে অত্রি সাহা, দ্বিতীয় লামিয়া আক্তার, তৃতীয় সানজিদা অফরিন, চতুর্থ সুরাইয়া সুলতানা এবং পঞ্চম স্থান অধিকার করে ঊর্মি দাস।
এর আগে আলোচনা সভায় নড়াইল বন্ধুসভার সভাপতি প্রীতি রবি দাসের সভাপতিত্বে ও উপদেষ্টা মো. মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শিব শংকর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার বিশ্বাস। এ সময় ভালো মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিব শংকর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রুবিনা ইয়াসমিন, সহকারী শিক্ষক স্বরূপ কুমার বিশ্বাস, মিশকাত শরীফ, নড়াইল বন্ধুসভার উপদেষ্টা শামিম আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জান্নাতি খাতুন, সহসভাপতি বাবর মির্জা (রনি), অভিষেক পাল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জেরিন তাসনীম (জেবা), সদস্য শারমিন মীম প্রমুখ।
মাদারীপুর
মাদারীপুর শহরের আলহাজ আমিনউদ্দিন হাইস্কুলে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ১২০ জন শিক্ষার্থী। পরে বিজয়ী ৫ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম শুরু হয়েছে ছাত্রদের দিয়ে। নবম শ্রেণিতে যখন পড়ি, তখন থেকে আমি সংগ্রামের পথ ধরেছি। আমি সৌভাগ্যবান যে মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য লড়াই করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের শুধু বলব, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধারণ করে তোমরা সততার সঙ্গে থেকো। সততাই তোমাদের বড় করবে, সাহসী হিসেবে গড়ে তুলবে ও সংগ্রামী করে তুলবে। আর নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখো।’
মাদারীপুর বন্ধুসভার সভাপতি আঞ্জুমান জুলিয়ার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন আলহাজ আমিনউদ্দিন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আকমল হোসেন, মাদারীপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা সোহেল রানা, প্রথম আলোর মাদারীপুর প্রতিনিধি অজয় কুন্ডু, মাদারীপুর বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক এইচ এম হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার সহসভাপতি শাহাদাত আকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ সরদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাঁধন খান, অর্থ সম্পাদক আন্না আক্তার, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরুল হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক রিয়া মনি, সদস্য আল শাহরিয়াত করিম, তরিকুল ইসলাম, ইরান শিকদার প্রমুখ।
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের হৈমবালা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের রাই মোহন চৌধুরী মিলনায়তনে দুপুর ১২টার দিকে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণা করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল ও সিরাজগঞ্জ গণহত্যা অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক সাইফুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন হৈমবালা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহেল অফি, জ্ঞানদায়িনী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী, সিরাজগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেশ চন্দ্র ভৌমিক। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আরিফুল গণি।
এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান, আলাউদ্দিন খান, সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভার উপদেষ্টা প্রদীপ সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিপুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল শেখ, ম্যাগাজিন সম্পাদক আশীষ বিপ্লব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলাইনা হাসান, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক সুমাইয়া জাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি আবুল কাশেম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
এতে ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১১০ জন শিক্ষার্থী কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এদের মধ্য থেকে ১০ জনকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হয়। তারা হলো তাসনিম কবির কথা (প্রথম), ফাতেমা খাতুন মিথিলা (দ্বিতীয়), আফিয়া খাতুন (তৃতীয়), মাহফুজুর রহমান (চতুর্থ), খুশবু রহমান (পঞ্চম), নিশু খাতুন (ষষ্ঠ), আফিয়া আনোয়ার (সপ্তম), চৈতি খাতুন (অষ্টম), ওহেদুল কবির হিমেল (নবম) ও সামি সিরাজ সিপ্ত (দশম)।
সিলেট
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার নবারুণ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসের সম্মেলনকক্ষে দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২০ মিনিটের পরীক্ষায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
কুইজের ফলাফল ঘোষণার আগে প্রথম আলো বন্ধুসভা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপস্থিত বক্তৃতা, কবিতা ও দেশাত্মবোধক গানের আয়োজন করা হয়।
পরে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও কুইজের বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমনকুমার দাশ। প্রথম আলো বন্ধুসভা সিলেটের সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রত্যাশা তালুকদার তন্বীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান চৌধুরী, নবারুণ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। দেশের সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়তে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আগামীর প্রজন্মকে ভালো শিক্ষক হতে হবে, ভালো সায়েনটিস্ট হতে হবে, ভালো চিকিৎসক হতে হবে। সমাজে অবদান রাখতে হবে।
আলোচনা শেষে কুইজের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা। কুইজে প্রথম হয়েছে তাছনিহা জান্নাত (বুশরা), দ্বিতীয় হয়েছে তাছিন আক্তার, তৃতীয় হয়েছে মঞ্জুরুল করিম, চতুর্থ হয়েছে সামিয়া আক্তার ও পঞ্চম হয়েছে ফাতিমা বেগম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবারুণ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন, প্রথম আলো বন্ধুসভা সিলেটের সহসভাপতি শ্রেয়ান ঘোষ, প্রচার সম্পাদক কৃত্য ছত্রী, ক্রীড়া সম্পাদক সুমন দাশ, পাঠচক্র সম্পাদক অম্লান রায় অর্ঘ্য, রেজাউল হক ইমন, জামিউল হোসেন আরাফ, বৃষ্টি বর্মন প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড উদ্বোধন করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আরা খাতুন।
মুক্তিযুদ্ধের আগে বাংলাদেশের মানুষের বৈষম্য ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দীন শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘পশ্চিম পাকিস্তানিরা সব সময় আমাদের দাবিয়ে রাখতে তৎপর ছিল। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা বিজয় অর্জন করেছিল। বাংলাদেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তোমাদের, তরুণ প্রজন্মের।’
প্রথম আলোর চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি শাহ আলমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেন, প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান দেলোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাজন মাহমুদ এবং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ আববার ফাইয়াজ (লামিম), ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (রোজা) এবং ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আয়মান তাওসিফ।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলো বন্ধুসভার সহসভাপতি আরাফাত ফাগুন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া আক্তার সোনিয়া, সদস্য সাজ্জাদ হাসান অন্তর ও অন্তরা হালদার উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০০ শিক্ষার্থী বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬–এ অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় নাফিস আহমাদ ও সানিয়াত ইবনে উমর যৌথভাবে প্রথম, মোহাম্মদ আবরার ফাইয়াজ লামিম দ্বিতীয়, জেরিন তাসনিম তৃতীয়, সাফিউল ইসলাম (নির্ঝর) চতুর্থ ও ইউসুফ আশরাফী (আলভী) পঞ্চম স্থান অধিকার করে।
মেহেরপুর
মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের হলরুমে দুপুর ১২টায় মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার উল হক বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় খোঁজার লড়াই, শোষণ থেকে মুক্তির লড়াই এবং একটি মানচিত্র অর্জনের লড়াই।
মেহেরপুর বন্ধুসভার সদস্য ও কলেজের প্রভাষক নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কলেজের উপাধ্যক্ষ ও বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল্লাহ আল আমিন, সহকারী অধ্যাপক রূপালী বিশ্বাস, ইকরামুল হাসান, প্রভাষক খাইরুল ইসলাম, জহির আহমেদ, জান্নাতুল নাঈম, হুমায়ুন আহমেদ, মেহেরপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বশির আহমেদ, প্রথম আলোর মেহেরপুর প্রতিনিধি আবু সাঈদ প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজে মোট ৮১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা। প্রতিযোগিতায় মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী শারিকা হোসেন অহনা প্রথম স্থান অধিকার করেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন জান্নাতুল মাওয়া। তৃতীয় হয়েছেন হুমায়রা আক্তার, মৌমিতা রহমান ও কানিজ ফাতিমা। চতুর্থ হয়েছেন মুবাশ্বিরা রহমান, ইশরাত জাহান, মোছা. মারিয়াম, মৃত্তিকা রহমান ও চামেলী খাতুন। পঞ্চম স্থান অর্জন করেন সুস্মিতা পাত্র দিয়া।
মুন্সিগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জ উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ে দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একাডেমিক ভবনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুন্সিগঞ্জ শহরের কয়েকটি উচ্চবিদ্যালয়ের ৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
পরে মুন্সিগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি মাসফিক সিহাবের সঞ্চালনায় স্বগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ফয়সাল হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান, উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর মুন্সিগঞ্জ জেলা সংসদের সহসভাপতি হামিদা খাতুন, মুন্সিগঞ্জ উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আক্তার জাহান প্রমুখ।
এ সময় হামিদা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে হলে মুক্তিযুদ্ধকে, মুক্তিযোদ্ধাদের জানতে হবে। ২০২৪ সালে একটি দলের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন–সংগ্রাম ছিল। কিন্তু ১৯৭১ সালে একটি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়েছে। ২০২৪ সালের গুরুত্ব রয়েছে, কিন্তু একাত্তরকে কোনোভাবে বাদ দেওয়া যাবে না। একাত্তর না হলে এ দেশের জন্ম হতো না। তাই দেশের মুক্তিযুদ্ধকে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোনোভাবেই ছোট করা যাবে না।’
বাগেরহাট
বাগেরহাট শহরতলির চিতলী বৈটপুরের উদ্দীপন বদর-সমছু বিদ্যানিকেতন মিলনায়তনে সকালে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাগেরহাট বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বৈষম্য ও সীমাহীন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। আজ তোমরা সহজে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছ, কিন্তু তখন বাঙালিরা এ সুযোগ পেত না। সুযোগ পেলেও উচ্চ মূল্যে শিক্ষা উপকরণ কিনতে হতো। শিক্ষিতদের জন্য চাকরির সুযোগও ছিল খুবই সীমিত। বাঙালি জাতির সর্ববৃহৎ অর্জন হলো ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং এর মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালির মুক্তির পথ।’
আরও বক্তব্য দেন বাগেরহাট বন্ধুসভা সভাপতি মাহামুদ হোসেন (শোভন) ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপংকর পাল।
এই আয়োজনে ২৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে নবম শ্রেণির আল নাহিয়ান, দ্বিতীয় সপ্তম শ্রেণির জান্নাতুল ফেরদৌস, তৃতীয় সপ্তম শ্রেণির হালিমা খাতুন, চতুর্থ নবম শ্রেণির সুমাইয়া জান্নাতি এবং পঞ্চম সপ্তম শ্রেণির নিয়ামুল খান। বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথি ও বন্ধুসভার সদস্যরা।
শরীয়তপুর
লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা। লাখো মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে। সেই স্বাধীনতা ও বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই আর মুক্তিযুদ্ধকে ও কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে বিতর্কিত করতে দেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করার সময় এমন মন্তব্য করেছেন জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
শরীয়তপুরের নড়িয়ার মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে আজ মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজে ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিজয়ী শিক্ষার্থীরা হলো মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, বর্ষণ বিশ্বাস, হামীম হাওলাদার, আরিয়ান ইসলাম ও রাকিবুল ইসলাম।
দুপুরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন শরীয়তপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব মাদবর, সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সরদার, সাংবাদিক মজিবুর রহমান, মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফরিদ আল হোসাইন ও প্রথম আলোর শরীয়তপুর প্রতিনিধি সত্যজিৎ ঘোষ।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব মাদবর বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি জীবন্ত ইতিহাস। বিভিন্ন সময় এই ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছে। তা করতে দেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সরদার, সাংবাদিক মুজিবুর রহমান ও অধ্যক্ষ ফরিদ আল হোসাইন।
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ শহরের আরজত আতরজান উচ্চবিদ্যালয়ে দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম আলো কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি নুসরাত জাহানের (মুন্নী) সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি তাফসিলুল আজিজ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গণি, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী করিম উল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা কমান্ডের সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক ভূঞা, আরজত আতরজান উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুবকর ছিদ্দিক, সমাজসেবক আব্দুল্লাহ আল মুহাইমিন (লাক মিয়া) প্রমুখ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গণি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। তরুণদের উচিত এই ইতিহাস জানা এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া।’
অলিম্পিয়াডে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন নিয়ে কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচজন শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়। তারা হলো আরজত আতরজান উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুদ্র সাহা (প্রথম), লায়েকুর রহমান (দ্বিতীয়), সিয়াম রানা (তৃতীয়), ওমর মাহমুদ (চতুর্থ) এবং মিতু আক্তার (পঞ্চম)। পরে বিজয়ীদের হাতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার সহসভাপতি নাজমুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়েশা হাবিবা (ইম্পা), মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক তাফহিম বিন আজিজ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাদিয়া খান (মিল্কি) প্রমুখ।
সৈয়দপুর
নীলফামারীর সৈয়দপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ মিলনায়তনে আজ মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৈয়দপুরের ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক ও সৈয়দপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা শিউলী বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দপুরের প্রথম প্রতিরোধযোদ্ধা শহীদ মির্জা মাহাতাব বেগের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা সালাহউদ্দিন বেগ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সমাজসেবী শেখ রোবায়েতুর রহমান। প্রথম আলোর সৈয়দপুর প্রতিনিধি এম আর আলম সৈয়দপুরে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন সৈয়দপুর বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সাদ ইবনে আলম। সঞ্চালনা করেন সৈয়দপুর বন্ধুসভার সভাপতি মমতাজ বেগম। প্রধান অতিথি মির্জা সালাহউদ্দিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ঘোষণা পড়ে শোনান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে যার যা অবদান, তা স্বীকার করা আমাদের নৈতিক দায়।’
অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া ১২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ৫ জন সেরা নির্বাচিত হয়। প্রথম হয়েছে সাদেকুল ইসলাম। দ্বিতীয় জান্নাতুল ফেরদৌস সাদিয়া। তৃতীয় হয়েছে মাস্তুরা বিনতে নিজাম। চতুর্থ নুরে জান্নাত নেহা ও তাহমিদ বিন রাশেদ রাফি পঞ্চম পুরস্কারটি পায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, সৈয়দপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা আহমেদা ইয়াসমিন ইলা, হোসনে আরা লিপি, বন্ধুসভার সহসভাপতি ডালিম রায়, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব জনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাধনা রায়, তাহমিন আরিফ লাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার নিলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক রায়েম চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক রেজা আহমেদ, প্রচার সম্পাদক এম রাশেদ সরকার প্রমুখ।
বগুড়া
বগুড়ায় বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ মিলনায়তনে দুপুর ১২টার দিকে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শুরু হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনা ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধকালীন একাত্তরের রণাঙ্গনের বীরত্বগাঁথা ও পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধের অকুতোভয় লড়াইয়ের কাহিনি শোনান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিকিৎসক আরশাদ সায়ীদ। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাঙালির ইতিহাসে মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি সশস্ত্র সংগ্রাম নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় ও শৃঙ্খলমুক্তির সর্বশ্রেষ্ঠ অধ্যায়। দেশপ্রেমের চেতনায় শাণিত ও উজ্জীবিত করে আগামীর জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।’
আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সনাক) বগুড়া জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি মাসুদার রহমান হেলাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বগুড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রুহুল আমিন বাবলু, বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মুহা. মুস্তাফিজুর রহমান। বগুড়া বন্ধুসভার সভাপতি ও সরকারি আজিজুল হক কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখার প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মো. ফিরোজ মিয়ার সভাপতিত্বে ও বগুড়া বন্ধুসভার সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল্ গালিব খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শহীদ আজাদের বীরত্বগাথার গল্প শোনান প্রথম আলোর বগুড়ার নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার পারভেজ। শিক্ষার্থীদের মিথ্যা, মাদক ও দুর্নীতিকে ‘না’ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার শপথ করান বগুড়া বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর আলম (তন্ময়)।
মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে তৌহিদুর রহমান, যৌথভাবে দ্বিতীয় হয় মাহবুবা মোরশেদ ও ইয়ামিন সরকার। তৃতীয় সর্বোচ্চ একই নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় হয় ৯ জন। তারা হলো নুসরাত জাহান সাবিহা ও সামিয়া আকতার, রাফসান জানি, তাহসানুজ্জামান তালহা, সাদিকুল আবরার (আহাদ), প্রিয়ন্তি পাশা (প্রাপ্তি), সাদমান হাসান, তাসনিম রাফিয়া (তামান্না) ও প্রণয় কুমার সরকার।
মাগুরা
মাগুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেলা ১১টা ৩০টার দিকে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শুরু হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আবদুল ওহাব। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদস্যসচিব মো. ওয়ালিউজ্জামান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মঞ্জু।
আবদুল ওহাব শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হবে, যাতে তোমরা দেশের কর্ণধার হতে পারো। তোমাদের ভেতর থেকেই ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হবে এবং তোমরা দেশ গড়ে তুলবে।’ নিজে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘বাজার থেকে আমার এক নিরীহ বন্ধুকে ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলা হয়। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, নিরস্ত্র হয়ে মরার চেয়ে ট্রেনিং নিয়ে পাকিস্তানি সৈন্য মেরে মরব।’
আরও বক্তব্য দেন মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্যসচিব মো. ওয়ালিউজ্জামান। আলোচনা শেষে অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই বিতরণ করা হয়।
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ হাইস্কুলে দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুজ্জামান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই পড়তে হবে। সঠিক ইতিহাস না জানলে স্বদেশপ্রেম জাগ্রত হয় না। নির্ভরযোগ্য ইতিহাস জানতে বেশি বেশি বই পড়ার বিকল্প নেই।
কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা, রিভার ভিউ হাইস্কুল, কুড়িগ্রাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়। পরে পাঁচজন বিজয়ী শিক্ষার্থীর হাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই তুলে দেওয়া হয়। বিজয়ীরা হলো ইসরাত জাহান লিনা, তাসনিম আলম, ফাতিহা তাফসির বর্ষা, মারজাবিন আক্তার মারিয়া ও শেহজাদ হোসেন শাহিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, শিক্ষক মোশাররফ হোসেন, রেজাউল করিম, বন্ধুসভার উপদেষ্টা সফি খান, মোখলেছুর রহমান মুকুল, রুকুনুজ্জামান রুকু, সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া শিমু প্রমুখ।
বরগুনা
বরগুনার ডিকেপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান।
প্রথম আলো বরগুনা বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক তানিয়া ইভার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিকেপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদা আকতার ও প্রথম আলোর বরগুনা প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিক। উপস্থিত ছিলেন বরগুনা বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক তানিয়া ইভা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মুন্না প্রমুখ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের যুদ্ধের কারণ শুধু একটা মানচিত্র বদল নয়, এটা ছিল শোষণ আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। আমরা লড়াই করেছি এমন একটা দেশের জন্য, যেখানে সবাই সমান অধিকারে বাস করবে। আজ নতুন প্রজন্মের কাছে আমার একটাই অনুরোধ, এই লাল-সবুজের পতাকাকে সম্মান করবে। আমরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি, তোমরা মেধা আর ভালোবাসা দিয়ে এই দেশটাকে আগলে রেখো। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।’
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৫ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। প্রথম হয়েছে ইব্রাহিম, দ্বিতীয় তাহসিনা মণি, তৃতীয় মো. তামিম, চতুর্থ আরিফা আক্তার এবং পঞ্চম হয়েছে মন্দিরা দেবী তিথি। পরে বিজয়ীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্পের বই উপহার দেওয়া হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) বন্ধুসভার উদ্যোগে নগরের ডাঁশমারী উচ্চবিদ্যালয়ে দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড। এতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে রাবি বন্ধুসভার উপদেষ্টা তুহিনুজ্জামান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি ঘটনা নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি। অসংখ্য ত্যাগ, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো সবার দায়িত্ব।’
আরও বক্তব্য দেন ডাঁশমারী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, নূরী সাইমা, নীলোৎপল সরকার, রাবি বন্ধুসভার সভাপতি সুইটি রানী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম স্থান অধিকার করেন রুমাইয়া আক্তার, দ্বিতীয় আনিকা আনজুম, তৃতীয় সুমাইয়া খানম, চতুর্থ রূপন্তি শাম্মি আক্তার এবং পঞ্চম টুপুর তাননিন আরা মিষ্টি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাবি বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রাবন্তী সরকার, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মুয়াজ্জিন হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ইফফাত আরা ইনাম (স্নেহা), ম্যাগাজিন সম্পাদক জুবায়ের ফাহিম হাসান ও সদস্য ফজলে রাব্বী।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলতান বিদ্যানিকেতনে দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রথম আলো বন্ধুসভা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ৯২ জন শিক্ষার্থী।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জাবি বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রুদ্রর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন কলতান বিদ্যানিকেতনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সানজিদা ইসলাম। তিনি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে কোনো কিছুই সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে আমাদের দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
আরও বক্তব্য দেন কলতান বিদ্যানিকেতনের সহকারী শিক্ষক সিতু সরকার, জাবি বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি শেখ হামিম ও সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান। কুইজে সেরা পাঁচজন শিক্ষার্থীকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ও সনদ দেওয়া হয়।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল, ফরিদপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহ; প্রতিনিধি, সিলেট, ঠাকুরগাঁও, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, নড়াইল, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, মুন্সিগঞ্জ, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, বরগুনা, সৈয়দপুর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর।]