
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় ‘স্লেজিংকে’ কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে লোকপ্রশাসন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত চারজন শিক্ষক। তাঁরা হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী, প্রভাষক আব্দুল বাসিত, সহকারী প্রক্টর ওমর ফারুক ও জাহাঙ্গীর আলম। তাঁদের মধ্যে আশরাফ সিদ্দিকী ও আব্দুল বাসিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাহবুবুর রহমান, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সোহানুর রহমান, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শাকিল শাহরিয়ার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নওশাদ খান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. রাহুল, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের যশমন্ত মল্লিক। তাঁদের মধ্যে সোহানুর ও যশমন্তকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
অন্যদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রেদুয়ান করিম, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাজিদ আবরার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ফারদিন ইসলাম, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নোহান ইমতিয়াজ ও ইহসানুল হক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ফারদিন ও সাজিদ বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলা বিভাগ ও লোকপ্রশাসন বিভাগের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বাংলা বিভাগ লোকপ্রশাসন বিভাগকে ১৪৯ রানের লক্ষ্য দেয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত মানতে চায়নি লোকপ্রশাসন বিভাগ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি শান্ত করে ২০ মিনিট পর আবার খেলা শুরু হয়। বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে মাঠের উত্তর-পশ্চিম দিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিলেন। এরই মধ্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ‘স্লেজিং’ করা হলে মাঠে থাকা অপর পক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে উভয় বিভাগের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই দফায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বাংলা বিভাগের প্রধান রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা উত্তর–পশ্চিম কোনায় ছিল। লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এসে আক্রমণ করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা মাঠে যায়নি। আগে থেকেই বারবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থীরা। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অনেকেই আহত হয়েছে। যা–ই ঘটুক সবাই আমাদের শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে খেলা পরিচালনা কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’
লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, ‘যেহেতু ফাইনাল খেলা, আমি খেলা দেখতে মাঠে গিয়েছিলাম। আমাদের একজন খেলোয়াড়কে স্লেজিং করা হয়। ওই খেলোয়াড় মনে হয় প্রতিক্রিয়ায় কিছু বলেছিল। এরপর আমাদের খেলোয়াড় শিক্ষার্থীকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা মারধর শুরু করে। পরে আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা তা দেখে সেখানে যায়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি বাধে। আমি আটকাতে গেলে একজন আমার চোখের দিকে ঘুষি মারে। আহত হয়ে পড়ি। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি দ্রুতই সমাধান করবে।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডি এসে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিচার করা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা আহত হয়েছে, তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। জানামতে, দুটি হাসপাতালে দুজন করে ভর্তি আছে। শিক্ষার্থীরা এখন কোন পর্যায়ে যাচ্ছে, আমাদের ভাবতে হবে। এটা তো মাত্রা ছাড়িয়ে গেল।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক এবং খেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি এছাক মিয়াকে সভাপতি করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মো. এছাক মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত না মানায় প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পরে স্লেজিংকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’