সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানার বাজারে এনসিপির পদযাত্রা শেষে পথসভায় বক্তব্য দেন সারজিস আলম। শুক্রবার বিকেলে
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানার বাজারে এনসিপির পদযাত্রা শেষে পথসভায় বক্তব্য দেন সারজিস আলম। শুক্রবার বিকেলে

কয়েক দিন পর বিএনপি বিএনপির চোখ তুলে ফেলবে: সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘আজকে না হয় এনসিপির ওপর হামলা করেছে দেখে ছাত্রদল-বিএনপির একটা অংশ চুপ। কয়েক দিন পরে তো আপনাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হবে, ভাগ-বাঁটোয়ারা শুরু হবে। নির্বাচনে আপনাদের প্রার্থীর কামড়াকামড়ি শুরু হবে। ওই দিন আর এনসিপির আলিফের চোখ তুলে দিতে হবে না। বিএনপি বিএনপির চোখ তুলে ফেলবে।’

আজ শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানার বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত পথসভায় সারজিস আলম এ কথাগুলো বলেন। পথসভায় দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতুসহ সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলার সময় চোখে গুরুতর আঘাত পান এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরী। চিকিৎসকেরা বলছেন, আলিফের বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরবে না। ডান চোখেও তিনি এখনো ঝাপসা দেখছেন।

বিএনপির একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, ‘বিএনপির যদি ১০০ জন মানুষ থাকে, ক্ষমতার অপব্যবহার, অফিসে অফিসে গিয়ে টেন্ডার নেওয়া, থানাকে নিজের মতো করে চালাতে চাওয়া, হাসপাতালে ওষুধের টেন্ডার নেওয়া, খাবারের টেন্ডার নেওয়া, রাস্তাঘাটের কাজের ঠিকাদারের কাছ থেকে চাঁদাবাজি—এই কাজগুলো সর্বোচ্চ পাঁচজন করে। ওই পাঁচজনের জন্য আমরা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাই না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা পাই না, রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়, প্রতিটি জায়গায় লুটপাট ও চাঁদাবাজি হয়। আপনারা ৯৫ জন কেন, ওই ৫ জনের কুকর্মের দায় নেবেন?’

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানার বাজারে এনসিপির পথসভায় উপস্থিতি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। শুক্রবার বিকেলে

বিগত আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির ওপর হওয়া হামলা-মামলার প্রসঙ্গ তুলে সারজিস আলম বলেন, ‘যে দল গুমের শিকার, খুনের শিকার, মিথ্যা মামলার শিকার, হামলার শিকার; যে দল ১৭ বছর জুলুমের শিকার হয়েছে এবং জুলাইয়ে আমাদের সঙ্গে একসঙ্গে আন্দোলন করেছে, সেই দল যদি নতুন করে স্বৈরাচার হতে চায়, আমরা বলে দিচ্ছি, আমরা সেই দলকে স্বৈরাচার হতে দেব না।’ তিনি বলেন, ‘সেই দলের প্রধানমন্ত্রী হোক, মন্ত্রী হোক, এমপি হোক—যে যে কাজ করবে, যদি সেটা সমালোচনার হয়, যত বড় ক্ষমতাসীনই হোক, আমরা তার বিরুদ্ধে সমালোচনা করব।’

অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এবার আমরা আর কোনো উপদেষ্টা বানাব না। সবাই দেশটার বারোটা বাজায় চলে গেছে। এবার হলো একটাই অ‌্যাকশন—তরুণেরা পুরা বাংলাদেশে যেভাবে ডাকাতদের ঠেকিয়েছে, এইভাবে নিজেরা ক্ষমতায় গিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করবে।’

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তরুণদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পাটওয়ারী বলেন, ‘দলীয় প্রতীক না থাকায় তরুণদের সামনে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনো দলের সমর্থনের দরকার নেই। দলের চেয়ে জনগণের সমর্থনের ওপর পৃথিবীতে আর কোনো কিছু নেই। পুরো বাংলাদেশে আপনারা দাঁড়িয়ে যান।’