গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়া গাছটিতে রক্তিম ফুলের আভা। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তোলা
গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়া গাছটিতে রক্তিম ফুলের আভা। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তোলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় জমেছিল কত স্মৃতি, সেটিই আর নেই

কারও কাছে গাছটি ছিল ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার চেনা সঙ্গী, কারও কাছে ছবি তোলার প্রিয় জায়গা। কারও বিশেষ কোনো দিনের স্মৃতিও জড়িয়ে এর সঙ্গে। গ্রীষ্মে ফুলের রক্তিম আভায় মুগ্ধ হয়ে অধিকাংশ পথচারী থমকে দাঁড়াতেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনের সামনে থাকা সেই কৃষ্ণচূড়াগাছটি ভেঙে পড়েছে।

আজ সোমবার সকালে গাছটি ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের তোলা ছবি প্রকাশ করে স্মৃতিচারণা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রিয় গাছটি হারিয়ে অনেকেই দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এ এইচ এম মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই গাছটি রোপণ করা হয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে গাছটির মূল কাণ্ডে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও পানি জমে পচন ধরেছিল। শাখা-প্রশাখা বেশি হওয়ায় একপর্যায়ে ওজন সইতে না পেরে গাছটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে।

শিক্ষার্থী কৌশিক দাশ কঙ্কণ গাছটির ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘ক্যাম্পাসে আজ শোকের দিন!’ জান্নাতুন নাঈম মন্তব্য করেছেন, ‘আহ কৃষ্ণচূড়া! মোচড় দিয়ে উঠল কেমন।’

গাছটি প্রিয় ছিল জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন।  সজীব আহমেদ লিখেছেন, ‘এই গাছটা সব সময় আমার স্মৃতিতে থাকবে।’ বন্না মণ্ডলের ভাষায়, ‘বহিরাগত হলেও গাছটা আমার ভীষণ প্রিয় ছিল।’

রাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার লিখেছেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবেগ, অনুভূতি আর স্মৃতির সেই কৃষ্ণচূড়াটাও আমাদের বিদায় জানাল।’

কৃষ্ণচূড়াগাছটি ভেঙে পড়েছে। আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনের সামনে

‘আরইউ ইনসাইডার’ নামের একটি ফেসবুক পেজেও গাছটি ভেঙে পড়ার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘গাছটি ছাড়া জায়গাটি কেমন লাগবে, ভাবতেই কেমন লাগছে।’ ‘সব স্মৃতি এভাবেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়’—এমন আক্ষেপও উঠে এসেছে পোস্টটিতে।

গাছটির সঙ্গে বিশেষ টান ছিল বিজ্ঞান ভবনকেন্দ্রিক শিক্ষার্থীদের। জুবায়ের রহমান মন্তব্যে লিখেছেন, ‘আমরা যাঁরা ফার্স্ট সায়েন্সের মানুষজন আছি, তাঁদের কষ্টটা একটু বোধ হয় বেশি। এই কদিন আগেই এখানে প্রোগ্রাম করলাম আমরা। ডিপার্টমেন্টে যত ধরনের অনুষ্ঠান হোক, এখানে এসেই ছবি তুলি। প্রতিদিন বিল্ডিংয়ে ঢোকার আগে-পরে চোখে পড়ে। এত এত স্মৃতি কীভাবে ভুলি!’

আরেক শিক্ষার্থী মুবতাসিন ফুয়াদ ধ্রুব লিখেছেন, ‘এই কৃষ্ণচূড়াগাছটা ঘিরে বর্ষা উৎসব করতে চেয়েছিলাম। এই রাস্তা দিয়ে আর হাঁটব কীভাবে? কীভাবে তাকাব এই অনুপস্থিতির দিকে?’