জামালপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার পাঁচটি আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জামালপুর পৌর শহরের পিটিআই পরক্ষীণ বিদ্যালয় কেন্দ্রে
জামালপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার পাঁচটি আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জামালপুর পৌর শহরের পিটিআই পরক্ষীণ বিদ্যালয় কেন্দ্রে

জামালপুরের পাঁচটি আসনেই বিএনপির দাপুটে জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনেই দাপুটে বিজয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। প্রতিটি আসনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় জেলায় দলটির নেতা–কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসন: এ আসনে ১২৮টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে এম রশিদুজ্জামান (মিল্লাত) ১ লাখ ৭২ হাজার ১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. নাজমুল হক ৯৩ হাজার ৬৬১ ভোট পেয়েছেন। ৭৮ হাজার ৪৫৪ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীকের এম রশিদুজ্জামান বিজয়ী হন।

জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসন: এ আসনে ১২৮টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে সুলতান মাহমুদ (বাবু) ৯৫ হাজার ৩৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ছামিউল হক ৬১ হাজার ৬৫৫ ভোট পেয়েছেন। ৩৩ হাজার ৭২৩ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীকের সুলতান মাহমুদ বাবু বিজয়ী হন।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসন: এ আসনে ১৫৪টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের মো. মোস্তাফিজুর রহমান (বাবুল) ২ লাখ ৬ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ৭৯ হাজার ৬০৭ ভোট পেয়েছেন। ১ লাখ ২৬ হাজার ৬০৭ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীকের মোস্তাফিজুর রহমান বিজয়ী হন।

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন: এ আসনে ৮৮টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার (শামীম) ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ৪৪ হাজার ১৬১ ভোট পেয়েছেন। ১ লাখ ২ হাজার ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীকের মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার বিজয়ী হয়েছেন।

জামালপুর-৫ (সদর) আসন: এ আসনে ১৬১টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী (মামুন) ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুহাম্মদ আবদুস সাত্তার ১ লাখ ১১ হাজার ৬৯৫ পেয়েছেন। ৮৬ হাজার ৫৯৭ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীকের মো. ওয়ারেছ আলী বিজয়ী হন।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম জামালপুরের পাঁচটি আসনেই বিএনপি বিজয় লাভ করেছে। জামালপুরের মানুষ তাঁদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও ন্যায়ের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছেন। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ব্যাপক বিজয় প্রমাণ করে, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এতে দলীয় নেতা–কর্মীরাও আনন্দিত।

জামালপুর-৫ (সদর) আসনের বেসরকারিভাবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী বলেন, পাঁচটি আসনের জনগণ এবার তাঁদের ভোটের মাধ্যমে সত্য ও গণতন্ত্রের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয় প্রমাণ করে, জনগণ পরিবর্তন চেয়েছেন এবং তাঁদের আস্থা বিএনপির ওপরই রয়েছে। এই বিজয় কোনো ব্যক্তির নয়, এটি জামালপুরবাসীর বিজয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিজয়। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব এবং উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকব।’