
ঠাকুরগাঁওয়ে সমতলের চা–বাগান দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আজ সোমবার দুপুরে স্ত্রী ডিয়ান ডাওকে সঙ্গে নিয়ে নিটোলডোবা এলাকার চা–বাগানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন।
আজ বেলা দুইটার দিকে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পারিয়া ইউনিয়নের নিটোলডোবা গ্রামের গ্রিন ফিল্ড টি স্টেট পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি চা–বাগানের শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে চা–পাতা উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন। একপর্যায়ে তিনি মাথাল পরে চায়ের পাতা তুলতে শুরু করেন।
এ সময় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এটিই আমার প্রথম আগমন। এর আগে আমি শুধু পাহাড়ের ঢালে থাকা চা–বাগান দেখেছি। তাই সমতলে এমন চা–বাগান দেখা আমার জন্য একদমই নতুন এক অভিজ্ঞতা। আমি দেখতে পাচ্ছি, যাঁরা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে চা–পাতা তুলছেন, তাঁরা সত্যি খুব দক্ষ। কারণ, আমি খুব দ্রুত হোয়াইট টি, গ্রিন টি কিংবা ব্ল্যাক টি আলাদা করতে পারতাম না; অথচ তাঁরা সারা দিনে কেজির পর কেজি পাতা তুলে ফেলেন। তাই এটি দেখা বেশ রোমাঞ্চকর। আমি এখানকার চায়ের স্বাদ গ্রহণে অপেক্ষায় আছি। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সফরটি খুব উপভোগ করছি এবং দেশের আরও নতুন জায়গা দেখার আশা রাখছি।’
সেখান থেকে ফেরার পথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তবর্তী মন্ডুমালা গ্রামে সূর্যপুরী জাতের প্রাচীন আমগাছটি পরিদর্শন করেন।
পরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শাহবাজপুর এলাকায় গ্রিন ফিল্ড টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চা কারখানায় যান। সেখানে সবুজ পাতা থেকে চায়ের উৎপাদনপ্রক্রিয়া দেখেন। পরে কারখানায় উৎপাদিত গ্রিন টির স্বাদ গ্রহণ করেন।
পরিদর্শনের সময় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডিয়ান ডাও, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মিস নিকোল ক্লারিসা বেসনার্ড, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, গ্রিন ফিল্ড টি ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শরিফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।