
ফেনীতে একটি আবাসিক হোটেলের টয়লেটে গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা বসিয়ে চিনি জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল ‘খাঁটি মধু’। দুই কেজি আসল মধুর সঙ্গে ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে তৈরি করা ‘খাঁটি মধু’ বাজারজাত করত একটি চক্র। টানা ৮ বছর ধরে এমন কাজ চললেও জানেন না হোটেল মালিক। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এমন ভেজাল মধু তৈরি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাতে ফেনী শহরের বড় মসজিদ রোডের ‘হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিক’–এ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ মহসিন (৪৫), মেহেদী হাসান (৪০), মোহাম্মদ রাসেল (৩৮) ও জসিম উদ্দিন (৪০)। তাঁদের সবার বাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিকের ছয়তলার একটি কক্ষের টয়লেটে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চুলা বসিয়ে চিনি জ্বাল দিয়ে ভেজাল মধু তৈরির কাজ চলছিল একটি চক্র। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের মূল হোতা মোহাম্মদ মহসিন জানান, বাজারে প্রতি কেজি ভালো মানের খাঁটি মধুর দাম ১ হাজার ২০০ টাকার ওপরে। সাধারণ ক্রেতাদের কম দামে মধু কেনার আগ্রহ থাকে। সেই ধারণাকে পুঁজি করেই তাঁরা এ প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন দুই কেজি আসল মধুর সঙ্গে ১০ কেজি চিনির মিশ্রণে তৈরি করে ১২ কেজি ভেজাল মধু। দুই কেজি আসল মধু ও চিনি জ্বালে তাদের খরচ হতো প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। পরে বোতলে ভরে ‘খাঁটি মধু’ নামে বাজারে বিক্রি হতো প্রায় ছয় হাজার টাকায়।
জিজ্ঞাসাবাদে মহসিন আরও জানান, তাঁদের চক্রে মোট ৩৮ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ জন সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া এলাকায় এবং অপর ১৪ জন এই আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে তৈরি করা ভেজাল মধু বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত বিক্রি করতেন।
হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিকের ব্যবস্থাপক রুস্তম আলী বলেন, ‘পুলিশ যাঁদের হোটেল থেকে আটক করেছে, তাঁরা দীর্ঘ আট বছর ধরে আমাদের হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত ও অবস্থান করতেন। আমরা তাঁদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলে জানতাম। তবে তাঁদের ব্যবসা কী, কখনো জানার চেষ্টা করিনি। তাঁদের আচরণেও কখনো সন্দেহ হয়নি। টয়লেটের ভেতরে এমন অপকর্ম চলছিল, তা হোটেলের কেউ কখনো টের পাননি।’
স্থানীয় বাসিন্দা নুর নবী জীবন বলেন, একে তো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিনি জ্বাল দিয়ে ভেজাল মধু উৎপাদন, তার ওপরে খাঁটি মধুর নাম দিয়ে বাজারে বিক্রি করে সাধারণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে চক্রটি। সহজ–সরল মানুষেরা এসব মধু কিনে যেমন প্রতারণা শিকার হচ্ছেন, তেমন স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণে জড়িত এমন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযান পরিচালনাকারী ফেনী মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ সবুজ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চিনি মিশিয়ে ভেজাল মধু তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তার চারজনকে আজ সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।