চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মূল প্রতিশ্রুতিগুলো এখনো অপূর্ণ, চাকসু কী করছে

শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট কমবে। শাটল ট্রেন ও ক্যাম্পাসের পরিবহনব্যবস্থা উন্নত হবে। আধুনিক হবে চিকিৎসাকেন্দ্র। ক্যাম্পাস হবে নিরাপদ ও নারীবান্ধব। এক বছর আগে চাকসু নির্বাচনে ভোট চাইতে গিয়ে এমন অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ছাত্র সংসদ ফিরে আসায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাও ছিল বড়। কিন্তু এক বছর শেষে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত মূল প্রতিশ্রুতিগুলোর বড় অংশই এখনো অধরা রয়ে গেছে।

গত বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের আগে এমন ৩৩ দফা ইশতেহার দিয়েছিল ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচিত হলে ১২ মাসে এসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিল প্যানেলটি। নির্বাচনে ২৬ পদের ২৪টিতেই জয় পান এই প্যানেলের প্রার্থীরা। কিন্তু তাঁদের মেয়াদের এক বছর পূর্ণ হতে চললেও বড় প্রতিশ্রুতিগুলোর বেশির ভাগই এখনো কাগজে রয়ে গেছে।

এক বছর শেষে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত মূল প্রতিশ্রুতিগুলোর বড় অংশই এখনো অধরা রয়ে গেছে।

ইশতেহার ধরে প্রতিটি অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি যাচাই করেছে প্রথম আলো। এতে দেখা গেছে, ৩৩ দফার ১৮টিই বাস্তবায়িত হয়নি। এ তালিকায় রয়েছে আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, পাঠাগার ও ক্যাম্পাসে কাজের সুযোগ। পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে ১০টি, আংশিক হয়েছে ৫টি। তবে বাস্তবায়িত প্রতিশ্রুতিগুলোর বেশির ভাগই তুলনামূলক ছোট পরিসরের বা সাধারণ কার্যক্রমনির্ভর। ফলে সংখ্যায় কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও মৌলিক সংকটের চিত্র খুব একটা বদলায়নি।

নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর চাকসুকে সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। ...পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে।
মোহাম্মদ আল-ফোরকান চাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য

শুধু প্যানেলের ৩৩ দফা নয়, চাকসুর সম্পাদক, সহসম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যদের ব্যক্তিগত ইশতেহার বাস্তবায়নের চিত্রও একই। এসব পদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ২২২টি অঙ্গীকার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১০৭টি বাস্তবায়িত হয়নি। পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে ৬০টি এবং আংশিক ৫৫টি। অর্থাৎ ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া অঙ্গীকারেরও প্রায় অর্ধেক এখনো অপূর্ণ।

গত বছরের ১৫ অক্টোবর চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ অক্টোবর শপথ নেন চাকসুর নির্বাচিত নেতারা। বর্তমান কমিটির মেয়াদের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ২৩ অক্টোবর। এ সময়ে চাকসু কী করেছে, নির্বাচনী অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তার সুফল শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন কি না—এসব জানতে গত ১৫ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষক, ৫০ শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা ও চাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো।

চাকসুর সভাপতি উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান প্রথম আলোকে বলেন, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর চাকসুকে সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। তবে আবাসনসংকটের মতো বড় সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) জমা দিয়েছি, সেগুলো এখন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার আরেকটি ডিপিপিও শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট পাঁচটি হল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।’

বাজেটের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, চাকসু প্রায় ৮ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে পুরো অর্থ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে চাকসুর চাহিদা ও প্রাপ্ত বরাদ্দের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। পরবর্তী চাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে।

শুধু প্যানেলের ৩৩ দফা নয়, চাকসুর সম্পাদক, সহসম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যদের ব্যক্তিগত ইশতেহার বাস্তবায়নের চিত্রও একই। এসব পদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ২২২টি অঙ্গীকার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১০৭টি বাস্তবায়িত হয়নি। পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে ৬০টি এবং আংশিক ৫৫টি।

মূল প্রতিশ্রুতিতেই পিছিয়ে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো সংকটগুলোর একটি আবাসন। এখনো ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পান না। নির্বাচনের আগে ছাত্রশিবির বলেছিল, বিদ্যমান হল সংস্কার ও সম্প্রসারণ, নতুন ভবন নির্মাণ এবং অন্তত ১০ শতাংশ আসন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘ মেয়াদে নির্মাণ করা হবে বেশি শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতার বহুতল হল। এক বছরেও সেই প্রতিশ্রুতির দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হয়নি। তিনটি হলের বর্ধিত অংশ সংস্কার করে মাত্র ১৯৭ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে।

পরিবহনেও বড় পরিবর্তন আসেনি। ইশতেহারে শাটল ট্রেনের সংখ্যা ও বগি বাড়ানো, প্ল্যাটফর্ম আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ এবং শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ চালুর কথা ছিল। একটি শাটলের সব বগি সংস্কার এবং আরেকটির বগি পরিবর্তন করা হলেও শাটলের সংখ্যা বাড়েনি। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ও আশপাশের উপজেলা থেকে বাস সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি।

একই চিত্র চিকিৎসাসেবায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারকে ৩০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর, চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত এবং অস্ত্রোপচারকক্ষ স্থাপনের কথা ছিল। এর কোনোটিই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

পরিবহনেও বড় পরিবর্তন আসেনি। ইশতেহারে শাটল ট্রেনের সংখ্যা ও বগি বাড়ানো, প্ল্যাটফর্ম আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ এবং শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ চালুর কথা ছিল। একটি শাটলের সব বগি সংস্কার এবং আরেকটির বগি পরিবর্তন করা হলেও শাটলের সংখ্যা বাড়েনি। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ও আশপাশের উপজেলা থেকে বাস সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, অনুষদভিত্তিক চাইল্ড কেয়ার ও দুগ্ধপান কর্নার-সংবলিত কমনরুমের প্রতিশ্রুতিও বাস্তব রূপ পায়নি। নারীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরিতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইশতেহারে যেভাবে সামগ্রিক সুবিধা তৈরির কথা ছিল, তা হয়নি। টিএসসি ও কেন্দ্রীয় মিলনায়তন নির্মাণ, অন-ক্যাম্পাস চাকরি, মেন্টাল হেলথ কাউন্সিল এবং শরীরচর্চার পর্যাপ্ত সুবিধাও অপূর্ণ অঙ্গীকারের তালিকায়।

নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইমা আক্তার বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাসের প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা এখনো আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা ও খাবার নিয়ে।

ক্রিমিনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী গালিব কবীর বলেন, আবাসনসংকট দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বর্তমান চাকসু। শাটলের সূচি বিপর্যস্ত, শহরগামী বাসের অভাব রয়েছে। মেডিক্যাল সেন্টারেও চিকিৎসক ও ওষুধের ঘাটতি আছে। ফলে নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমস্যাগুলোই এখনো শিক্ষার্থীদের ভোগাচ্ছে।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, অনুষদভিত্তিক চাইল্ড কেয়ার ও দুগ্ধপান কর্নার-সংবলিত কমনরুমের প্রতিশ্রুতিও বাস্তব রূপ পায়নি। নারীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরিতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইশতেহারে যেভাবে সামগ্রিক সুবিধা তৈরির কথা ছিল, তা হয়নি।

তবে কিছু অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়েছে। খাবারের মান ও মূল্য তদারকিতে ফুড সেল গঠন, শিক্ষার্থীদের অফিশিয়াল ই-মেইল সহজলভ্য করা, লিগ্যাল এইড সেল গঠন এবং উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে কর্মশালা-সেমিনার হয়েছে। যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধেও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গবেষণা, গ্রিন ক্যাম্পাস, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ও কটেজ-মেসের সুবিধা বাড়ানোর মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আংশিক অগ্রগতি পাওয়া গেছে।

ছাত্র উপদেষ্টা ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রশাসন চাকসুকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিয়েছেন। বড় ধরনের অসহযোগিতার কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই।

ক্রিমিনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী গালিব কবীর বলেন, আবাসনসংকট দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বর্তমান চাকসু। শাটলের সূচি বিপর্যস্ত, শহরগামী বাসের অভাব রয়েছে। মেডিক্যাল সেন্টারেও চিকিৎসক ও ওষুধের ঘাটতি আছে। ফলে নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমস্যাগুলোই এখনো শিক্ষার্থীদের ভোগাচ্ছে।

৭০ থেকে ১০০ শতাংশ অগ্রগতি দাবি ভিপির

চাকসুর ভিপি মো. ইব্রাহীম হোসেন দাবি করেন, আবাসন ও পরিবহন ছাড়া ৩৩ দফার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৭০, ৮০, এমনকি শতভাগ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে। মেয়াদ শেষ হতেও কিছু সময় বাকি আছে। সেই সময়ের মধ্যে আরও কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, নতুন শাটল ট্রেন ও বাস যুক্ত হয়নি এবং আবাসনও প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ানো যায়নি। তবে পুরোনো শাটল সংস্কার, ১৪টি ইকো কার চালু, রাতে বাসের ব্যবস্থা এবং কয়েকটি হল সংস্কার করে শতাধিক শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা বা প্রত্যাশা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁরা পিছিয়ে ছিলেন না। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীরা যখন যে সমস্যার কথা জানিয়েছেন, প্রতিনিধিরা সেখানে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। মেয়াদের বাকি সময়ে অধিকাংশ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা তাঁর।

একটি প্যানেল থেকে ২৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন, আর আমি একা অন্য প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছি। শুরু থেকেই আমাকে কোণঠাসা করে রাখার বিষয়টি ছিল। কোনো কর্মসূচি নেওয়া কিংবা বিবৃতি দেওয়ার আগে আমার মতামত নেওয়া হয়নি। চাকসুর কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়েও আমাকে জানানো হয়নি।
এজিএস আইয়ুবুর রহমান

বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর মূল্যায়ন অবশ্য ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, গত প্রায় এক বছরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। বিশেষ করে আবাসন, নিরাপদ খাবার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের মতো বিষয়ে চাকসু প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের এজেন্ডার বদলে দলীয় কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন চাকসুর প্রতিনিধিরা।

বিশ্ববিদ্যালয় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক সুদর্শন চাকমা বলেন, চাকসুর কিছু দৃশ্যমান কার্যক্রম থাকলেও মৌলিক সমস্যা সমাধানে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। আবাসনসংকটের মতো বড় সমস্যায় কার্যকর নীতি বা কর্মপরিকল্পনা তিনি দেখেননি। প্রশাসনকে চাপ দিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়েও নির্বাচিত নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন।

‘আমি কোণঠাসা ছিলাম’

ছাত্রদলের প্যানেল থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে এজিএস পদে জয়ী হয়েছিলেন আইয়ুবুর রহমান। চাকসুর কার্যক্রমে তাঁকে অনেকটা কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি বলেন, ‘একটি প্যানেল থেকে ২৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন, আর আমি একা অন্য প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছি। শুরু থেকেই আমাকে কোণঠাসা করে রাখার বিষয়টি ছিল। কোনো কর্মসূচি নেওয়া কিংবা বিবৃতি দেওয়ার আগে আমার মতামত নেওয়া হয়নি। চাকসুর কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়েও আমাকে জানানো হয়নি।’ চাকসুর ফেসবুক পেজ পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, চাকসুর ফেসবুক পেজটি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কেউ পরিচালনা করেন, নাকি ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা পরিচালনা করেন, সেটি তাঁর জানা নেই।

এজিএস আইয়ুবুর রহমানের অভিযোগ নাকচ করেছেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন ও জিএস সাঈদ বিন হাবিব। তাঁদের দাবি, চাকসুর কোনো প্রতিনিধিকে কোণঠাসা করে রাখার সুযোগ নেই। প্রত্যেক প্রতিনিধি নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে তাঁদের জন্য আলাদা বাজেটও বরাদ্দ রয়েছে।

ভিপি ইব্রাহীম হোসেন বলেন, প্রথম কার্যনির্বাহী সভা থেকেই তাঁরা একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্বাচন যুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও প্রস্তুতি শুরুর দাবি তাঁদের। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটে পরবর্তী চাকসু নির্বাচনের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকাকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি ছিল চাকসু নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে যুক্ত করে নিয়মিত নির্বাচন নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষের দিকে। পরবর্তী নির্বাচনের নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি।

ভিপি ইব্রাহীম হোসেন বলেন, প্রথম কার্যনির্বাহী সভা থেকেই তাঁরা একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্বাচন যুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও প্রস্তুতি শুরুর দাবি তাঁদের। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটে পরবর্তী চাকসু নির্বাচনের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকাকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সপ্তম চাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এক বছর শেষে সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। নতুন নির্বাচন না হলে শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বলার নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক কাঠামোও থাকবে না।