
‘বালুর ট্রাক রাস্তা থাইকি নাইমি কলাহাটের মধ্যে ঢুইকি কলাটলা সব দুমড়ি উল্টি গেল। আমার ব্যাপারি খুঁজতিচি। দেকি ব্যাপারী নাই; ট্রাকের তলে পড়িচে।’ এভাবেই সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনার বর্ণনা দিলেন ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন (৬০)।
রাজশাহীর পুঠিয়ায় বাজারের ভেতর বালুবোঝাই ডাম্প ট্রাক উল্টে অন্তত চারজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পাশে ঝলমলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বালুবাহী একটি ড্রাম্প ট্রাক রাজশাহীর দিক থেকে নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। ঝলমলিয়া বাজারে কলাহাটের মাঝামাঝি গিয়ে ট্রাকটির সঙ্গে বিপরীত থেকে আসা আরেকটি গাড়ির সামান্য ধাক্কা লাগে। এতে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কলাহাটের ভেতরে ঢুকে যায়। চালক শক্ত ব্রেক করে থামাতে গেলে ট্রাকটি উল্টে যায়। আর ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন চারজন ব্যবসায়ী। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। আংশিক চাপা পড়ে দুই পা হারিয়েছেন আরেক ব্যবসায়ী।
ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। ট্রাকটি পবা হাইওয়ে পুলিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে গেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে হাইওয়ে থানায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম (২৬), পাইকপাড়া গ্রামের আক্কেল প্রামাণিকের ছেলে মুনকের প্রামাণিক, বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের সৈয়ম উদ্দিনের ছেলে মো. সেন্টু (৪০) ও রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের মাহাতাব আলীর ছেলে ইসলাম আলী (৬২)।
আহত ব্যবসায়ী রাহেনুল ইসলামের (৪২) বাড়ি পুঠিয়ার বানেশ্বরের খুঁটিপাড়া গ্রামে। তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরেক ব্যাপারী রেজাউল করিম (৫৮) বললেন, ‘আমি কলার দামাদামি করছি। এমন সময় দেখি ট্রাক সড়সড়া কলাহাটের মধ্যে নামি আসতিচে। দেখি আমি সইরি আইচি। আল্লাহ আমাক বাঁচা দিচে।’
ঝলমলিয়া বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, ‘বালু বোঝাই ড্রাম ট্রাকটি রাজশাহীর দিক থেকে নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। আরেকটি গাড়ি রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিল। কলাহাটার মাঝামাঝি এসে গাড়ি দুই গাড়ির পেছনের সাইডে বাড়ি খায় (ধাক্কা লাগে)। ড্রাম্প ট্রাকটির গতি বেশি ছিল। দেখলাম, ট্রাকটি সেকেন্ডের মধ্যে কলাহাটার মধ্যে ঢুকে গেল। তারপর আহাজারি আর কান্নাকাটি।’
ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, তাঁরা সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পান। ঘটনাস্থলে এসে চারটি লাশ উদ্ধার করেন। আহত একজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
রাজশাহীর পবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ তিনটি লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। নিহত মুনকের প্রামাণিকের লাশ আগেই তাঁর স্বজনেরা নিয়ে যান। ট্রাকের মালিক বা চালকের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।