
প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছর পর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সিজারিয়ান) সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাসিনা চৌধুরীর নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের মতিউর রহমানের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। নবজাতক ও মা, দুজনেই সুস্থ আছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ১৯৬৪ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। এরপর বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের সুযোগ ছিল না। কখনো যন্ত্রপাতি থাকলে চিকিৎসক ছিল না আবার কখনো চিকিৎসক থাকলে যন্ত্রপাতি বিকল অবস্থায় ছিল।
এর মধ্যে গত বছর অস্ত্রোপচারের জন্য কক্ষ তৈরি করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও কেনা হয়। তবে তখন কোনো গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় এটি চালু করা যায়নি। চলতি বছরের মে মাসে একজন গাইনি কনসালটেন্ট হাসপাতালে নিয়োগ পাওয়ায় অস্ত্রোপচারের সুযোগ তৈরি হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মধু সুধন ধর প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হলো। মা ও নবজাতক সুস্থ রয়েছে। এখন থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে পারবেন।
এদিকে নবজাতকের পরিবারকে অভিনন্দন জানাতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নবজাতক ও তার মাকে নতুন পোশাক উপহার দেন। এ সময় সবাইকে মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করানো হয়।
প্রথম সন্তানের বাবা হওয়া মতিউর রহমান বলেন, ‘২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়। অনেক প্রচেষ্টার পর সন্তানের বাবা হলাম। গত বুধবার রাতে আমার স্ত্রীকে এখানে নিয়ে আসি। তবে আমার স্ত্রীর শারীরিক সমস্যা থাকায় স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হচ্ছিল না। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে সিজারের (অস্ত্রোপচারের) মাধ্যমে সন্তান প্রসব করা হয়। নিজ এলাকায় বিনা খরচে এমন সুবিধা পাওয়ায় আমি খুব খুশি।’