উদ্ধার হওয়া টিয়া পাখি অবমুক্ত করার জন্য নেওয়া হচ্ছে। বগুড়া; ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উদ্ধার হওয়া টিয়া পাখি অবমুক্ত করার জন্য নেওয়া হচ্ছে। বগুড়া; ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাচারের সময় উদ্ধার, তিন প্রজাতির ১০৩টি টিয়া উড়ল মুক্ত আকাশে

১০টি খাঁচায় ১০৩টি টিয়া পাখি। খাঁচার ছোট্ট ফাঁক দিয়ে বারবার উঁকি দিচ্ছিল। ডানা মেলতে চাইলেও গাদাগাদি করে রাখায় পারছিল না। অবশেষে এল মুক্তির ক্ষণ। খাঁচার দরজা খুলতেই একে একে উড়াল দিতে থাকে পাখিগুলো। কোনোটি ওপরের দিকে ছুটল। কোনোটির লক্ষ্য ছিল দূরের গাছ। অভিশপ্ত বন্দিত্ব থেকে মিলল মুক্তি!

অথচ বন্দিত্ব স্থায়ী হতে পারত প্লাম হেডেড প্যারাকিট বা লাল মাথা টিয়া, আলেকজ্যান্ডারি প্যারাকিট বা চন্দনা টিয়া এবং ইন্ডিয়ান রিংনেক প্যারাকিট প্রজাতির এই টিয়া পাখিগুলোর। শেষ পর্যন্ত জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎপরতায় মুক্ত আকাশে ওড়ার স্বাদ পেল পাখিগুলো।

বুধবার রাত ১১টা। বগুড়া মহানগরীর ঠনঠনিয়া বাস টার্মিনাল। নওগাঁ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আল বাকারা ট্রাভেলসের একটি বাস সেখানে থামল। আগে থেকে তথ্য থাকায় সেখানে অবস্থান করছিলেন ডিবির সদস্যরা। একপর্যায়ে তল্লাশি চালিয়ে বাসের মালামাল রাখার বক্সে পাওয়া যায় ১০টি খাঁচা। এসব খাঁচায় ছিল তিন প্রজাতির ১০৩টি টিয়া পাখি।

পাখি পাচারের গোয়েন্দা তথ্যটি প্রথমে বগুড়ার শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের কাছে পৌঁছায়। এরপর ডিবি পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে রাত ১১টার দিকে ঠনঠনিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়।

বগুড়া ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইকবাল বাহার বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন, পঞ্চগড় সীমান্তের ওপার থেকে টিয়া পাখি পাচার করে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পরে বগুড়া হয়ে নৈশ কোচের মালামাল পরিবহনের বাক্সে করে সেগুলো ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল।

একে একে মুক্ত করা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া পাখিগুলো। বগুড়া; ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উদ্ধারের পর পাখিগুলোর রাত কেটে যায় খাঁচার ভেতরেই। তবে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। বগুড়া পুলিশ কার্যালয় চত্বরে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ ও সামাজিক বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার দুলাল কুমার সাহাসসহ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাখি অবমুক্ত করা হয়। একে একে যখন ১০৩টি পাখি উড়াল দিচ্ছিল, সেই মুহূর্তটি ছিল অন্য রকম।

বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের পরিবেশবাদী সংগঠন টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের (তীর) সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, পাখি চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। অথচ বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানান ডিবির পরিদর্শক ইকবাল বাহার। তিনি বলেন, পরে এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাচারকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি।