কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে এক রাতে ২৫২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়। তবে কোন থানায় কতজন আটক হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি পুলিশ।
জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান আজ সকালে প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য, জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আছে, এমন স্থানগুলো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও ডিবির সদস্যদের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
লুৎফুর রহমান বলেন, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, এ জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে।
প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে মোট ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১৮টি থানা ও ডিবির সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। সর্বশেষ ২ অক্টোবর রাতে পঞ্চম দফার অভিযানে ৩৭০ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ২৭৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য ৯১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই অভিযানে আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের আগের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে মোট ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে পুলিশ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকায় লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান জোরদারের দাবি ওঠে।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদক, বিভিন্ন মামলায় জড়িত থাকা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।