দুর্ঘটনায় এক হাত হারালেও দমে যাননি তোফাজ্জল হোসেন। মাশরুম চাষ করে মাসে আয় করছেন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
শুরুটা ২০০৪ সালে। পুঁজি ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। এর মধ্যে সাত বছর আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হারান ডান হাত, তবে দমে যাননি। এখন মাশরুম চাষ ও মাশরুমের স্পন (মাশরুমের বীজ) তৈরির সফল উদ্যোক্তা তিনি। নিজ বাড়িতে স্পন তৈরি করে সরবরাহ করছেন বিভিন্ন জেলায়। মাশরুম চাষের আয় থেকে কিনেছেন জমি, করেছেন বাড়িসহ নানা কিছু। সফল এই মাশরুমচাষির নাম তোফাজ্জল হোসেন। বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার জালকুড়ি বৃষ্টিধারা এলাকায়।
তোফাজ্জল জানান, উপজেলার ভুঁইগড়ে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। কিন্তু ওই ব্যবসায় সুবিধা করতে পারেননি। ২০০৪ সালে তিনি মাশরুম চাষ শুরু করেন। প্রশিক্ষণ নেন সাভারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণকেন্দ্র থেকে। ১ মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ১ হাজার ২০০ টাকা পুঁজি নিয়ে জালকুড়িতে নিজের বাড়িতে ১০০ স্পন কিনে মাশরুম চাষ শুরু করেন।
সাফল্যের কথা জানিয়ে তোফাজ্জল বলেন, ‘হাত কাটা যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। পরে মাশরুম চাষ করে পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে। মাশরুম চাষ থেকে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে।’
জানা যায়, মাশরুম চাষ করার জন্য আলোহীন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থাকতে হয়। ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। মাশরুমের স্পনগুলো রাখার জন্য কাঠের মাচা ভালো। মাশরুমের স্পন তৈরির জন্য ঘর ঠান্ডা রাখতে সারাক্ষণ শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও ফ্যান চালিয়ে রাখতে হয়। মাশরুম চাষের জন্য স্পনগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ছিটাতে হয়। একটি মাশরুমের স্পন থেকে ২৫০–৪০০ গ্রাম মাশরুম উৎপাদিত হয়। তিন মাস পরপর স্পন পরিবর্তন করতে হয়।
তোফাজ্জল হোসেন এলাকায় দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) তাজুল ইসলাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, একটি হাত হারিয়েও তিনি সফল উদ্যোক্তা। মাশরুম চাষ করে তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। অনেকে তাঁর কাছ থেকে মাশরুমের স্পন কিনে নিয়ে চাষ করছেন।