ফেনী–২ (সদর) আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া অনশন করেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে
ফেনী–২ (সদর) আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া অনশন করেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে

প্রার্থীর অনশনের মুখে ফেনীর এসি ল্যান্ডকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার

ফেনীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডকে প্রত্যাহারের দাবিতে এক প্রার্থীর টানা ৩২ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচির পর ওই কর্মকর্তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের তদন্তে গঠিত ভিজিল্যান্স কমিটির সদস্যসচিব ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মো. নবীনেওয়াজ। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে তিনি অনশন শুরু করেন।

মো. নবীনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ফেনী–২ (সদর) আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার অভিযোগ আজ সকালে গ্রহণ করা হয়। পরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনের বক্তব্যও নেওয়া হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক ওই কর্মকর্তাকে নির্বাচনী সব কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তাঁর নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন

এই সিদ্ধান্তের পর আজ বিকেল চারটার দিকে অনশন ভাঙেন গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘৩২ ঘণ্টার শান্তিপূর্ণ অনশনের পর আমার ন্যায্য দাবিকে সম্মান জানানো হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা এসি ল্যান্ড প্রত্যাহারের দাবি মেনে নিয়েছেন।’

এক বিবৃতিতে তারিকুল ইসলাম বলেন, এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়; গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাহসী ভূমিকা এবং সত্যের পক্ষে অবস্থানের ফল। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এর আগে তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ফেনী–২ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ চলছে। তিনি দাবি করেন, সদর উপজেলার এসি ল্যান্ড তাঁকে হুমকি দিয়েছেন এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে একতরফাভাবে প্রচারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী–২ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ওরফে মঞ্জু বলেন, এসি ল্যান্ডের আচরণ ও সিদ্ধান্ত একপেশে ছিল। তাঁদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে এবং আচরণবিধি প্রয়োগে বৈষম্য ছিল। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এসি ল্যান্ডকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।’

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি ফেনী–২ আসনের খাজুরিয়া এলাকায় ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে ক্যারাভ্যান উদ্বোধনের দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এসি ল্যান্ড জসিম উদ্দিন। পরে আপিলের পর শুনানি শেষে জরিমানার ১৫ হাজার টাকা ফেরতের আদেশ দেয় জেলা প্রশাসন।