
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘নিরাপত্তাবেষ্টনী ও নিরাপত্তা টহল সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মালিকেরা।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন ভুক্তভোগীরা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সিলেট সদর উপজেলার কেওয়াছড়া, ছালিয়া, বড়শালা ও আঙ্গারুয়া মৌজার ৩ নম্বর খাদিমনগর ইউনিয়নের ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধূপাগোল, ছালিয়া, আটকিয়ারী, লালবাগ, রঙ্গিটিলা, চরচড়িকান্দি ও বাইশটিলা এলাকার জমি বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ও টহল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। এলএ মামলার আওতায় ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ৪ ধারার নোটিশ জারি ও যৌথ তদন্ত সম্পন্ন হলেও প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি ভূমির মালিকেরা। এমনকি চলতি বছরও পুনরায় যৌথ তদন্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন-২০১৭ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাঁরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জমি বিক্রি, নামজারি, খাজনা পরিশোধ, ঘরবাড়ি মেরামত, সন্তানদের বিয়ে ও বিদেশ গমনসহ নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সায়েস্তা মিয়া, হালিম আহমদ, বুলবুল আহমদ, মন্তাজ আলী, আব্দুল হাকিম প্রমুখ। তাঁরা বলেন, গত ছয় বছর ধরে শুধু আশ্বাসই দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২০০ পরিবার দুর্ভোগে আছে। সন্তানদের পড়াশোনা, ঘরবাড়ি মেরামতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, ‘ভূমির মালিকদের আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’