টাকা হাতে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন
টাকা হাতে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন

‘২ কোটি দেন, সব সই করে দেব’—বলা লক্ষ্মীপুর পিডিবির সেই নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আজ সোমবার পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউসার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মো. নুরুল আমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, বিউবো, লক্ষ্মীপুর–এর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২–এর ১৪১ (১) বিধির অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিধি অনুসারে নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’

জানতে চাইলে পিডিবির কুমিল্লা বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির সাময়িকভাবে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনটি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁকে সাময়িক বহিষ্কারের অফিস আদেশের চিঠিটি আমি বিকেলে পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত রোববার রাতে কৌশলী মো. নুরুল আমিনের প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে সামনে থাকা এক ব্যক্তিকে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব।’

ভিডিওতে তিনি একটি কাজের ব্যয় ও মালামালের হিসাব নিয়েও কথা বলেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘সোজা হিসাব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসাব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব।’

ভিডিওর একটি অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনো একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। ৬ কোটি টাকা তিন গুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।’

এরপর তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষ্মীপুর পিডিবির দুই ঠিকাদার অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন বিভিন্ন কাজের বিল অনুমোদন ও অর্থ ছাড় করাতে ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে বিল আটকে রাখা, কাজের অনুমোদন না দেওয়া কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলার কারণে ঠিকাদারদের কেউই তাঁর সঙ্গে বিরোধে যেতে চান না।

একজন ঠিকাদার বলেন, ‘বিল পাওয়ার জন্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। বিভিন্ন অজুহাতে বিল আটকে রাখা হয়। পরে ঘুষের বিষয়ে কথা ওঠে। তাঁর সঙ্গে বিরোধে গেলে কাজ পাওয়া ও বিল ছাড় করানো—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়তে হয়।’

অভিযোগ ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও জবাব দেননি। পরে আজ দুপুর ১২টার দিকে তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ সময় কার্যালয়ে থাকা পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন সকাল থেকেই কার্যালয়ে আসেননি।