
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে সড়কপথে। তবে ঈদযাত্রার শুরুতেই নারায়ণগঞ্জে বাসসংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই সুযোগে অনেক পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এ ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তবে স্বস্তি পরিস্থিতি মহাসড়কে, গাড়ির চাপ বেশি থাকলেও যানজট নেই।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানবাহনের চাপ রয়েছে। শত শত যাত্রী পরিবহন কাউন্টারগুলোয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক কাউন্টারে নির্ধারিত সময়ে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজধানীতে একটি ছাপা কারখানায় কাজ করেন মাসুদ মিয়া। ঈদ করতে মা, বোনসহ পরিবারের ছয়জনকে নিয়ে ভৈরব গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। সকাল ছয়টায় এলেও গাড়ি পাচ্ছেন না। কাউন্টারগুলোয় যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তা–ও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।
সকাল থেকে সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত সাইনবোর্ড কাউন্টার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের তিনটি বাস ছেড়ে যায়। অনেক যাত্রী কাউন্টারে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু গাড়ি পাচ্ছেন না। কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে জানালেন, তিনটা গাড়ি ছেড়ে গেলেও একটাও সিট পাওয়া যায়নি। ঈদ উপলক্ষে ৫০ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
পরিবহন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, বরাবরই ঈদে যাত্রীর চাপ বেশি। গতকাল বুধবার সব পোশাক কারখানা ছুটি হয়েছে। এমনিতেই যাত্রী বেশি। ঢাকায় গাড়ি ঢুকতে ও বের হতে সময় লাগছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে গাড়ি আসছে না। গাড়ির তুলনায় যাত্রী বেশি।
পরিবহন–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে আগাম বিক্রি হওয়া টিকিট ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখন যাত্রীরা নির্ভর করছেন ‘রানিং’ বাসের ওপর, যা সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছাতে পারছে না। নোয়াখালী রুটে চলাচলকারী সারা এক্সপ্রেস বাসের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ মিঠু প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের পরিবহনের ছয়টি গাড়ি ছেড়ে গেছে। যাত্রীর তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কম।
অন্যদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের এই সুযোগে কিছু পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কোনো কোনো রুটে দ্বিগুণ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কথা হয় চাঁদপুরগামী যাত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সকাল সাতটা থেকে পরিবার নিয়ে বসে আছি। তিন ঘণ্টা হয়ে গেল, এখনো বাস আসেনি। ছোট বাচ্চা নিয়ে এই গরমে অপেক্ষা করা খুব কষ্টকর। আড়াই শ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।’
নারায়ণগঞ্জ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২১টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের এই সময়ে মহাসড়ক দুটিতে যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। তবে এবার এখন পর্যন্ত তেমন যানজট দেখা যায়নি। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু পদ শর্মা প্রথম আলোকে বলেন, মহাসড়কে যানজট নেই। মানুষ স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছে।