চট্টগ্রাম আদালত ভবন
চট্টগ্রাম আদালত ভবন

দুর্নীতির মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের স্ত্রীর কারাদণ্ড

কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের স্ত্রী আমেনা খাতুনকে দুর্নীতির মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এই রায় দেন।

দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসেন প্রথম আলোকে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপন ও দুর্নীতির মামলায় আদালত আমেনা খাতুনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

দুদক জানায়, টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। পরে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে ২০১৭ সালের ৯ জুলাই আমেনা খাতুনের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়। এক দফা সময় বাড়িয়ে ওই বছরের ৩০ জুলাই তিনি দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সম্পদ বিবরণীতে তিনি কোনো স্থাবর সম্পদ প্রদর্শন করেননি। দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তাঁর নিজ নামে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে ৩০ লাখ ৩ হাজার ৩২ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পান দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা। ২৬ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনে উৎসের সঙ্গে অসংগতি থাকায় ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক রিয়াজউদ্দিন ২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে বলা হয়, আমেনা খাতুন একজন গৃহিণী। তবে মোট সম্পদ ও খরচ মিলে তাঁর ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৩২ টাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে গ্রহণযোগ্য আয় রয়েছে ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২ টাকা। ৩১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ।

টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি। তালিকায় তাঁর তিন ছেলে শাহজাহান মিয়া, দিদার মিয়া ও ইলিয়াছের নামও রয়েছে। ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের ১০২ জন ইয়াবা কারবারির মধ্যে জাফর আহমদের ছেলে দিদার মিয়াও আত্মসমর্পণ করেন।