
তিন বছর বয়সী ছেলেকে কোলে করে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন মো. হাসান (৩০)। কথা ছিল বাড়ি ফিরেই স্ত্রী মাসুমা বেগমের সঙ্গে সকালের নাশতা খাবেন। হাসানের আর বাড়ি ফেরা হয়নি। যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় পথেই প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যু হলেও বেঁচে গেছে তাঁর কোলে থাকা শিশুসন্তান জুনাইদ হাসান।
আজ বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান বরগুনার আমতলী উপজেলার মো. ইউসুফ হাওলাদারের ছেলে। পাঁচ বছর ধরে তিনি মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্থানীয় একটি সিমেন্ট কারখানায় গাড়িচালকের কাজ করতেন তিনি।
নিহত হাসানের স্বজন ছাদিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাজার করে ছেলেকে কোলে করে হাসান বাড়ি ফিরছিলেন। সড়ক পারাপারের সময় ঢাকাগামী সেঁজুতি পরিবহনের একটি বাস তাঁকে ধাক্কা দেয়। তবে বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগার আগেই হাসান তাঁর কোলে থাকা সন্তান জুনাইদকে সড়কের পাশে ছুড়ে ফেলে দেন। এতে জুনাইদ বেঁচে যায়। শরীরের কিছু জায়গায় ব্যথা পেলেও জুনাইদ পুরোপুরি সুস্থ আছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, বাসের চালক পালিয়ে গেলেও বাসটি আটক করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহত হাসানের লাশ বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। লাশ দাফনের জন্য বরগুনার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। বেলা দুইটা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।