সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্র মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনের সামনে
সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্র মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনের সামনে

মব ভায়োলেন্স বলে কিছু নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি খুবই ভালো বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকায় নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, মব ভায়োলেন্স বলে কিছু নেই।

আজ বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

অনেক প্রার্থী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন, এক সাংবাদিক এটুকু বলতেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যেসব ক্যান্ডিডেট অশোভন আচরণ করছেন, তাঁরা পাস করার পর কী করবেন? এ জন্য আপনারা এগুলো ফলাও করে দেবেন। যদি আপনারা ফলাও করেন, দেখবেন তাঁরা নিজেরাই সোজা হয়ে যাবেন। কেউ যদি অশুভ আচরণ করেন, এটা যদি সমাজে প্রকাশ পেয়ে যায়, সে-ই কিন্তু রেক্টিফাই হয়ে যায়। আর যদি সে বেশি ধরনের কিছু করে, পাশে ব্যবস্থা আছে (কারাগার দেখিয়ে), ওইটার ব্যবস্থা।’

পরে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন মব ভায়োলেন্স নিয়ে পুলিশের ভেতর একটা ভীতি কাজ করছে, এর জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই। পুলিশের ভেতরে কোনো ভীতি কাজ করতেছে না।’

এ সময় পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকে ডেকে পাশে আনেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ সময় ডিআইজির কাঁধ ও পেটে থাবড়া দেন। পুলিশ কমিশনারকে ডেকে এনে বলেন, ‘এই যে দেখুন’। তখন সাংবাদিকেরা বলতে থাকেন, পুলিশ কমিশনারকে তাঁরা চেনেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা জানান, ১২ তারিখের নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে প্রস্তুতি দেখেছি, তাতে আমি আশাবাদী। প্রায় সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে বাউন্ডারি ওয়াল নেই, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আমি বিশ্বাস করি, এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে।’

নির্বাচনে সারা দেশে ব্যাপকসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রায় এক লাখের বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া পাঁচ হাজার নৌবাহিনীর সদস্য, তিন শতাধিক বিমানবাহিনীর সদস্য, প্রায় তিন হাজার সাত শ বিজিবি সদস্য, কোস্টগার্ড, দেড় লক্ষাধিক পুলিশ সদস্য, র‌্যাবের সদস্য এবং সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আনসার সদস্য, পাঁচ লক্ষাধিক—নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন।

অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অবৈধ অস্ত্র নিয়মিত উদ্ধার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার কোনো আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র‌্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। এই সভায় রাজশাহী বিভাগের নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভা করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কোনো সংশয় নেই। নির্বাচনের প্রস্তুতি খুবই ভালো। নির্বাচনের দিনসহ আগে ও পরে মোট সাত দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এবারের নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। নির্বাচনের পরে কোনো সহিংসতা হবে না বলে তিনি আশা করেন।