
খাবার দেওয়া নিয়ে ঝগড়ার পর রাত ১০টার দিকে মেয়েকে নিয়ে একটি ছোট কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন রিনা বেগম (৩২)। স্বামী সুমন সরকার (৪০) পাশের বড় কক্ষে ঘুমান। রাত আনুমানিক একটার দিকে তিনি স্ত্রীর কক্ষে যান। আট বছরের মেয়ের পাশে ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন তিনি।
সুমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আজ রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
এর আগে ভোরে অভিযান চালিয়ে গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তাঁর স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে পুরো ঘটনা জানিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
নিহত রিনা বেগম গজারিয়ার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ে। সুমন সরকার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের বাছেদ সরকারের ছেলে। পেশায় তিনি রংমিস্ত্রি। প্রায় ১৭ বছর আগে রিনা ও সুমনের বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে মো. আবদুল্লাহ (১৪) আর মেয়ে সিনহা আক্তার (৮)।
পুলিশের ভাষ্য, এ দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রায়ই তাঁদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হতো। গত শুক্রবার রাত নয়টার দিকে সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রী রিনা বেগমকে খাবার দিতে বলেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমন তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ভেঙে ফেলেন। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে স্বজনেরা মীমাংসা করে দেন। এরপরও মাঝরাতে স্ত্রীকে হত্যা করেন সুমন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে শ্বাস রোধ করে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন সুমন। পরে বাড়িতেই অবস্থান করেন তিনি। ভোরে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে কুমিল্লার দিকে চলে যান।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা থানা এলাকায় অবস্থান করেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে গজারিয়া থানা-পুলিশের একটি দল কুমিল্লায় অনুসরণ করতে থাকে। শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে পুলিশের অপর একটি দল টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুন্সিগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইমরান আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত রিনা বেগমের ভাই সাফায়েত হোসেন বাদী হয়ে আজ গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পরে আসামি সুমনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।