
২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে সরকারে থাকার সময় চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করে বিএনপি। তবে পরবর্তী সময়ে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। ওই সময়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন আটজন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে বিএনপি ভালো ফল করায় এবার মন্ত্রিসভায় জেলার প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়বে, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল চট্টগ্রামবাসীর। তবে সেটি হয়নি। মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব নেমে এসেছে মাত্র দুজনে।
এবার মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে স্থান পাওয়া দুজনের একজন মন্ত্রী এবং অপরজন প্রতিমন্ত্রী। ১৯৮২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার দশকে এবারই সবচেয়ে কম মন্ত্রী পেল চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রাম থেকে এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া দুজন হলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর ও পতেঙ্গা) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তাঁকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী করা হয়েছে। অপর দিকে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের ১২টিতে জয়লাভ করে বিএনপি। দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। জেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম তিনটি সাংগঠনিক জেলা শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এগুলো হলো চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ। এবার চট্টগ্রাম নগর ও উত্তরের প্রতিনিধিত্ব মন্ত্রিসভায় রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে বেশি স্থান হয় ২০০১ সালে। সেবার চট্টগ্রাম থেকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এম মোরশেদ খান, এল কে সিদ্দিকী ও আবদুল্লাহ আল নোমানকে মন্ত্রী করা হয়। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। এর বাইরে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার হুইপ করা হয় ওয়াহিদুল আলমকে।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে স্থান পান চারজন। এর মধ্যে দুজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে হাছান মাহমুদ ও শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে মহিবুল হাসান চৌধুরী দায়িত্ব পান। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ওয়াসিকা আয়শা খান দায়িত্বে ছিলেন।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী করা হয় তিনজনকে। তাঁরা হলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (পানিসম্পদমন্ত্রী), হাছান মাহমুদ (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ও সাইফুজ্জামান চৌধুরী (ভূমিমন্ত্রী)। প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় হুইপ ছিলেন শামসুল হক চৌধুরী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী করা হয় মহিবুল হাসান চৌধুরীকে।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে বন ও পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে মোশাররফ হোসেন ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী হিসেবে নুরুল ইসলাম দায়িত্ব পান। এ ছাড়া ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে হাছান মাহমুদ, আফসারুল আমিন ও দিলীপ বড়ুয়া মন্ত্রিসভায় ছিলেন।
মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে বেশি স্থান হয় ২০০১ সালে। সেবার চট্টগ্রাম থেকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এম মোরশেদ খান, এল কে সিদ্দিকী ও আবদুল্লাহ আল নোমানকে মন্ত্রী করা হয়। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। এর বাইরে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার হুইপ করা হয় ওয়াহিদুল আলমকে।
১৯৯৬ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রীর দায়িত্ব পান দুজন। তাঁরা হলেন এম এ মান্নান ও মোশাররফ হোসেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে স্থান পান চট্টগ্রামের তিনজন। তাঁরা হলেন অলি আহমদ (বর্তমান এলডিপি চেয়ারম্যান), আবদুল্লাহ আল নোমান ও এ এম জহিরুদ্দিন খান। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে চট্টগ্রাম থেকে তিনজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা হলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব কম থাকায় জেলার বাসিন্দাদের পাশাপাশি হতাশ বিএনপির নেতা–কর্মীরাও। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভার আকার ছোট হওয়ার কারণে হয়তো এবার মাত্র দুজন ঠাঁই পেয়েছেন। আশা করি, মন্ত্রিসভার আকার বড় হলে অবশ্যই চট্টগ্রামকে সরকার গুরুত্ব দেবে।’
মন্ত্রিসভার আকার ছোট হওয়ার কারণে হয়তো এবার মাত্র দুজন ঠাঁই পেয়েছেন। আশা করি, মন্ত্রিসভার আকার বড় হলে অবশ্যই চট্টগ্রামকে সরকার গুরুত্ব দেবে।নাজিমুর রহমান, সদস্যসচিব, চট্টগ্রাম নগর বিএনপি।
নাজিমুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিশ্বাসী। আমরা আশা করি, সরকার চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী করার জন্য যা যা করা দরকার, তা করবে। নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামের জনসভায় দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি বলেছেন।’
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম। যেখানে দেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে এক জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। গত ২৫ জানুয়ারি নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে এই সভা হয়।
বিগত ১৫ বছরে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, এমন মন্তব্য করে ওই জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘এই উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শুধু চট্টগ্রামের মানুষ নয়, দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দেশে ব্যবসা–বাণিজ্য অনেক চাঙা হবে, যাতে মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মানুষ চাকরি ও ব্যবসা–বাণিজ্য করে খেতে পারবে।’