রিকশাচালকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পর স্ত্রী ও স্বজনদের আহাজারি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে
রিকশাচালকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পর স্ত্রী ও স্বজনদের আহাজারি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে

সীমানাদেয়াল ভাঙা নিয়ে বিরোধের জেরে রিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা

মেহেরপুরে এক রিকশাচালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, সীমানাদেয়াল ভাঙাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সামনে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তাঁর এক স্বজন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর পৌর শহরের শেখপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গোলাম হোসেন (৪৬) ওই এলাকার ইয়াসিন আলীর ছেলে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সামিরুল ইসলাম। তিনি গোলাম হোসেনের খালাতো ভাই।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২ মে রিকশা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গোলাম হোসেনের কারণে প্রতিবেশী বন্যা খাতুনের বাড়ির সীমানাদেয়ালের একটি অংশ ভেঙে যায়। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে গোলাম হোসেন নিজ উদ্যোগে দেয়ালটি মেরামত করে দেন। তবে টিনের ফটক লাগানো নিয়ে তাঁদের মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য, গতকাল বিকেলে গোলাম হোসেন রিকশা নিয়ে বের হওয়ার সময় বন্যা খাতুন তাঁর পথরোধ করেন এবং ফটকটি ঠিক করার জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে বন্যা রিকশায় তালা ঝুলিয়ে দেন এবং মুঠোফোনে সামিরুলকে ঘটনাস্থলে ডাকেন।

খবর পেয়ে সামিরুল হাঁসুয়া হাতে ঘটনাস্থলে এসে বন্যার পক্ষ নিয়ে গোলাম হোসেনের সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে গোলামকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন সামিরুল। এ সময় তাঁর স্ত্রী আলেয়া খাতুন ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সামিরুল পালিয়ে যান।

গুরুতর আহত অবস্থায় গোলাম হোসেনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ঘটনার পর অভিযুক্ত সামিরুল পলাতক জানিয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবীর বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।