মাহফিলের প্রধান অতিথি ঠিক করা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রাজশাহীর চারঘাটে গতকাল শুক্রবার রাতে এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় জেলা বিএনপির এক সাবেক নেতাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
নিহত এরশাদ আলীর (৬৫) ছেলে মো. রিমন আলী (২২) আজ শনিবার চারঘাট থানায় এই মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে (উজ্জ্বল)। এ ছাড়া তাঁর চাচাতো ভাই মো. আতিকুল ইসলাম (৪৫), চারঘাট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলামসহ (৪৮) মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এরশাদ আলী চারঘাটের সিপাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদের (চাঁদ) অনুসারী ও ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে আজ বেলা সাড়ে তিনটায় জানাজা শেষে তাঁকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আগামী ৯ এপ্রিল ইউসুফপুর সিপাইপাড়া সালাফিয়া মাদ্রাসায় বাৎসরিক ইসলামী জলসা হওয়ার কথা। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয়রা মসজিদে আলোচনায় বসেন। এ সময় এক পক্ষ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে প্রধান অতিথি করতে চান, অন্যদিকে নিহত এরশাদ আলীসহ অন্যরা চান স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদকে প্রধান অতিথি করতে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। তখন আনোয়ার হোসেনের সমর্থকেরা আবু সাঈদের সমর্থকদের হুমকি দেন।
এজাহারে বলা হয়, রাতে এরশাদ তারাবিহর নামাজ পড়তে সিপাইপাড়া মসজিদে যান। নামাজ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাড়িতে ফিরছিলেন। গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে আনোয়ার হোসেনের হুকুমে হামলাকারীরা দলবদ্ধ হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, গাছের ডাল নিয়ে এরশাদ আলীর পথরোধ করেন। একপর্যায়ে আসামিরা তাঁকে মারধর করেন। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় লোকজন আহত এরশাদ আলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ছয় দিন ধরে ঢাকায় রয়েছেন। ওই গ্রামের সবাই তাঁর আত্মীয়। যাঁরা হামলা করেছেন এবং যিনি নিহত হয়েছেন, তাঁরা সবাই তাঁর আত্মীয়। এটি একটি সামাজিক বিরোধ থেকে ঘটেছে। এখন রাজনৈতিকভাবে তাঁর দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য তাঁকে আসামি করা হয়েছে। তাঁকে মামলায় জড়ানোর জন্য তিনি রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ ও চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলামকে দায়ী করেন।
আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। তাঁর কোনো জনসমর্থন নেই। তাই এখন মানুষ খুন করে রাজনীতি করতে চাচ্ছেন। আমি এ ঘটনার কঠোর বিচার চাই। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি।’
চারঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মামলায় এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।