বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল। আজ রাত নয়টায় তোলা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল। আজ রাত নয়টায় তোলা

ঢাকায় প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মশালমিছিল

ঢাকায় প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে মশালমিছিল করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে এ মিছিল বের হয়। পরে এটি গোলচত্বরের মূল ফটকে এসে শেষ হয়।

এতে অংশ নেওয়া দুটি বিভাগ হলো ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।

মশালমিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ডিপ্লোমারা টেকনিশিয়ান’, ‘নবম গ্রেডের মাস্তানি ভেঙে দাও’, ‘২৪-এর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘বিএসসি ছাড়া ইঞ্জিনিয়ার, মানি না মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এতে শিক্ষার্থীরা পুলিশের হামলার ঘটনায় সরকারের দায়িত্বশীল মহলকে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জানতে চাইলে কর্মসূচিতে থাকা ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নীরব দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রকৌশল অধিকার প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করে আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ করেছি। একই দাবিতে আমরা রোববার ও সোমবার দুই দিন ক্লাস-পরীক্ষা বয়কট করব।’

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার আর দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে প্রকৌশলী লিখতে না দেওয়া, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কাউকে পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা এবং দশম গ্রেডের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্নাতক প্রকৌশলীদের সুযোগ দেওয়া—এই তিন দফা দাবিতে গত বুধবার পাঁচ ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার তাঁদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হলো ‘লংমার্চ টু ঢাকা’। এর অংশ হিসেবে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা শাহবাগের মূল সড়কে অবস্থান নেন। এতে বন্ধ হয়ে যায় শাহবাগ ও আশপাশের সড়ক।

বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা যমুনা অভিমুখে রওনা দেন। তাঁরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় পেরোনোর চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিপেটা করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, পুলিশের হামলায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল ছোড়েন। এ ঘটনায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।