পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি–নাতনির লাশ উদ্ধার করার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ
পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি–নাতনির লাশ উদ্ধার করার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ

পাবনায় দাদি-নাতনি হত্যা ও ধর্ষণে জড়িত এক স্বজন গ্রেপ্তার

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি (৬৫) ও নাতনির (১৫) লাশ উদ্ধার করার ঘটনায় তাঁদের এক স্বজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার যুবক (৩০) ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি একাই এর সঙ্গে জড়িত। তিনি প্রথমে ওই নারীকে হত্যা করেন। পরে কিশোরীকে কয়েক দফা পিটিয়ে হত্যার পর ধর্ষণ করেন।

গতকাল শনিবার সকালে নিজ বাড়ির উঠান থেকে দাদির এবং পাশের শর্ষেখেত থেকে নাতনির লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই ওই স্বজনসহ দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নারীর মেয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আজ রোববার বিকেলে পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে কাজ শুরু করে। বাড়িটিতে গত সাত দিন কী কী হয়েছে, এসব তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিকভাবে আসামিকে শনাক্ত করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আসামির অবস্থান শনাক্ত ও তাঁকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত যুবক হত্যার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত বাঁশের গুঁড়ি, কাঠের বাটাম ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মেয়েটির বাবা বাড়িতে না থাকায় ওই যুবক মাঝেমধ্যেই বাড়িটিতে যেতেন; তাঁদের বাজার করে দিতেন। একপর্যায়ে তিনি মেয়েটিকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে যুবকটি কিশোরীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েটি তাঁকে চড় দেয়। তিনি বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আবার তিনি ওই বাড়িতে আসেন, মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করেন। মেয়েটির দাদি ওই যুবককে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং চেঁচামেচি শুরু করেন। তখন তিনি পাশে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে নারীর মাথায় আঘাত করেন। তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ আরও বলেন, পরে ওই যুবক ঘরের ভেতর নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েটি চিৎকার শুরু করলে তিনি মেয়েটির মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। পরে তিনি মেয়েটিকে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান। তাঁকে দুই দফা পিটিয়ে হত্যার পর ধর্ষণ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) বেনু রায় ও ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার যুবককে আগামীকাল সোমবার আদালতে পাঠানো হবে। তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে বেলা পৌনে তিনটার দিকে দাদি-নাতনির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর মেয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ওই যুবককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নিহত মেয়েটির বাবা-মা প্রায় ছয় বছর ধরে আলাদা থাকেন। মা নতুন করে বিয়ে করেছেন। তিন বোনের মধ্যে দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। মেয়েটি দাদির কাছেই থাকত। বাবা কাজের তাগিদে বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় আছেন। বাড়িতে শুধু দাদি ও নাতনি ছিলেন। শুক্রবার রাতে ওই বাড়ি থেকে হঠাৎ কান্নার শব্দ শোনা গিয়েছিল। এ সময় কয়েকজন প্রতিবেশী ঘর থেকে বের হলেও কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে যাওয়ায় তাঁরা নিজেদের ঘরে ফিরে যান।

গতকাল সকালে প্রতিবেশীরা বাড়ির উঠানে দাদিও রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। নাতনিকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে পাশের একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন বলে স্থানীয় লোকজন। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে।