নরসিংদীতে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে একই স্থানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে সহসভাপতি সারোয়ার হোসেন ও সাব্বির আহমেদ পক্ষের নেতা–কর্মীদের মানববন্ধন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে
ছবি: প্রথম আলো

নরসিংদীতে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে একই স্থানে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন সংগঠনের দুই পক্ষের নেতা–কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে উভয় পক্ষই শতাধিক নেতা–কর্মী নিয়ে একই সময়ে সমবেত হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে এক পক্ষের পর আরেক পক্ষ মানববন্ধন করে। এক পক্ষের মানববন্ধন যখন চলছিল, অন্য পক্ষকে তখন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই আহসানুল ইসলামকে সভাপতি ও শাহজালাল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পর থেকে সংগঠনে বিভক্তি দেখা দেয়। একটি পক্ষের নেতৃত্বে নবগঠিত কমিটির সভাপতি–সাধারণ সম্পাদক। অপর পক্ষটির নেতৃত্ব দেন কমিটির সহসভাপতি সারোয়ার হোসেন ও শিব্বির আহমেদ। ২৬ সেপ্টেম্বর রবিউল আলমকে সভাপতি ও জোবায়েত সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে সদর থানা ছাত্রলীগের ২৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ। এরপরই দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে আসে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে প্রথমে মানববন্ধন করেন জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সারোয়ার হোসেন ও সাব্বির আহমেদ পক্ষের নেতা–কর্মীরা। তাঁরা দুজন বক্তব্য দেওয়ার পরপরই পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

সংগঠনের এক পক্ষের নেতা–কর্মীদের মানববন্ধনের প্রতিবাদে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল আহমেদ পক্ষের নেতা–কর্মীদের মানববন্ধন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে

সারোয়ার ও সাব্বির বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ২০১০ সালের পর থেকে জেলা ছাত্রলীগের কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। ফলে তৃণমূল ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা এত দিন ধরে পদবঞ্চিত থেকেছেন। ৩১ জুলাইয়ের পর থেকে জেলা ছাত্রলীগ, নরসিংদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ ও সদর থানা ছাত্রলীগের যে কমিটিগুলো হয়েছে, সবগুলো কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত, বিতর্কিত, মাদকসেবী ও মামলার আসামিদের পদ দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে তাঁরা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা চান, সভাপতি–সম্পাদককে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তৃণমূলের প্রকৃত নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি দিক।

এরপরই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল আহমেদ পক্ষের নেতা–কর্মীরা মানববন্ধন করেন। এ সময় আহসানুল ইসলাম বক্তব্য দেওয়ার পরই পুলিশের অনুরোধে মানববন্ধন শেষ করে দেন এই পক্ষের নেতা–কর্মীরা।

বক্তব্যে আহসানুল ইসলাম বলেন, সারোয়ার ও সাব্বির যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে একটি পরিবারের ইশারায় তাঁরা এই মানববন্ধন করেছেন। কোনো অভিযোগ থাকলে তাঁরা লিখিত অভিযোগ দিতে পারতেন, তা না দিয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তাঁরা ছাত্রলীগকে কলঙ্কিত করেছেন। কারও ইন্ধনে ছাত্রলীগের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট ষড়যন্ত্র করা হলে জেলা ছাত্রলীগ তা মেনে নেবে না। দরকার হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূইয়া বলেন, ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ একই স্থানে একই সময়ে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করতে চেয়েছিল। পুলিশ এক পক্ষের পর অপর পক্ষকে মানববন্ধন করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফয়সাল আহমেদ বলেন, নবগঠিত সদর থানা ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতা–কর্মী বিভিন্ন মামলার আসামি, বিবাহিত ও মাদকাসক্ত। ত্যাগী নেতা–কর্মীদের বাদ দিয়ে অপরিচিতদের কমিটিতে নেওয়া হয়েছে। সম্মেলন ছাড়া পকেট কমিটি গঠন করে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিতর্কিত এই কমিটি বাতিল করা না হলে আন্দোলন চলবে।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামায়াত চক্রের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, নৈরাজ্য ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যানার নিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিলেন। প্রেসক্লাব এলাকা পার হওয়ার পর জানতে পারেন, ছাত্রলীগেরই আরেকটি গ্রুপ নাকি মানববন্ধন করছে। সেখানে গিয়ে দেখেন, যাঁরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে চেয়েও হতে পারেননি, এমন কিছু নেতা সেখানে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁদের দেওয়া মিথ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদে পরে তাঁরাও মানববন্ধন করেন।