রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে

রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউর সংকট

শিশুদের মৃত্যু নিয়ে দুঃখ প্রকাশ, সীমাবদ্ধতার কথা জানালেন স্বাস্থ্য সেবার সচিব

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিশুদের মৃত্যু নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন।

সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘রাজশাহীতে আমাদের সন্তানেরা, আমাদের বাচ্চারা, আপনারা যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেই মৃত্যুর জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। কোনো মৃত্যুই কারও জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।’

হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ বেড আছে। এগুলো সরকার অনুমোদিত নয়, হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালানো হয়। এই আইসিইউয়ে একটি বেডের জন্য সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। আইসিইউয়ে চিকিৎসাধীন কোনো শিশু মারা গেলে কিংবা কিছুটা সুস্থ হলে তাদের ডাক পড়ে। সিরিয়াল দিলে ৩০ থেকে ৫০ জনের পর শিশুদের আইসিইউয়ে নিতে ডাক আসে। বর্তমানে শিশুদের সাধারণ অসুখের পাশাপাশি ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে আইসিইউর চাহিদা আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই অপেক্ষমাণ তালিকার শিশুদের সংখ্যা ছিল ৩৯। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ছিল ১৬ জন।

১১ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা ৩৩ শিশু মারা যায়। এ নিয়ে ২৬ মার্চ প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘আইসিইউর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ২৮ মার্চ এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক আমাদের জানাননি যে, তাঁর কাছে ভেন্টিলেটর নেই। তাঁকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’

ওই ঘটনার পর আজ এই হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তাঁরা সার্বিক বিষয় নিয়ে সকালে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আইসিইউ পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কামরুজ্জামান চৌধুরী।

কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় সাতটি ভেন্টিলেটর এনেছেন। এগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত নয়, এমন শিশুদের আইসিইউ প্রয়োজন হলে তাঁরা রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানোরও পরিকল্পনা করেছেন। সেখানেও আইসিইউ সাপোর্ট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যেসব হাসপাতালে অবকাঠামো আছে, সেগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। আর এ জন্য আজ তিনি হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করবেন।

কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করব। সেখানে প্রথমে আউটডোর সেবা শুরু হবে এবং আগামী অর্থবছরে অন্য সেবাগুলোও চালু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের কারণে হামের টিকা পায়নি শিশুরা। মায়েরা হয়তো যখন গেছেন টিকা দিতে, তখন স্বাস্থ্যকর্মীদের পাননি। এ জন্য এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যে ক্রয় কমিটি ৬০৪ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে টিকা কেনার জন্য। আমরা টাকাও দিয়ে দিয়েছি। দ্রুতই শিশুদের হামসহ প্রয়োজনীয় টিকা প্রয়োগ শুরু হবে।’