প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

চুরির চেষ্টার অভিযোগে তরুণকে গাছে বেঁধে কেটে দেওয়া হলো চুল

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে মসজিদের সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে এক তরুণকে গাছে বেঁধে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পুলিশ ওই তরুণকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ৫ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাঁর দুই হাত পেছনে রশি দিয়ে বাঁধা। চারপাশে মানুষের ভিড়। অনেকেই চোখেমুখে টর্চলাইট দিয়ে তাঁকে দেখছেন। কেউ বলছেন, ‘চোরকে মার, যাতে আর চুরি না করে।’ কেউ বলছেন, ‘পুলিশের কাছে দিয়ে দাও।’ একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশকে দিয়ে কী হবে, টাকা খেয়ে ছেড়ে দেবে।’

জোর করে চুল কেটে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। কোনো ব্যক্তি অন্যায় করলে তার জন্য আইন আছে; কিন্তু নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া অন্যায়। চুল কেটে দেওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে।
মো. শরীফ আল রাজীব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা

এর মধ্যে একজন গালি দিয়ে ওই তরুণের গালে থাপ্পড় দেন। পাশ থেকে লোকজন মারতে নিষেধ করছেন। একটু পরপর তরুণ পানি খেতে চাইছিলেন, কেউ তাঁকে পানি দিচ্ছেন না। লোকজন বলছিলেন, ‘ওকে পানি দিয়ো না।’ এরপর একজন তরুণের মাথার সামনের চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে জানা যায়, ঘটনাটি গত বুধবার রাতে সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের কিশামত বড়বাড়ি গ্রামের। অভিযুক্ত তরুণের বাড়ি একই উপজেলার অন্য একটি ইউনিয়নে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দামোদরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ারুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, ‘এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, গাছে বেঁধে এক তরুণের চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা তরুণকে বুধবার গভীর রাতে থানায় নিয়ে যায়।’

গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, কিশামত বড়বাড়ি পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের সংস্কারকাজ চলছে। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে মসজিদ–সংলগ্ন বাড়ির এক ব্যক্তি বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে তিনি বাইরে বের হন। এ সময় মসজিদের ভেতরে টর্চলাইটের আলো জ্বলতে দেখেন। ওই ব্যক্তি মসজিদের দিকে এগিয়ে যেতেই মসজিদের বাইরে থাকা দুই তরুণ পালিয়ে যান। ভেতরে একজনকে আটকে ধরে ‘চোর, চোর’ বলে চিৎকার করেন।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন মসজিদ চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। পরে উত্তেজিত জনতা ধরা পড়া তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। তিনি লোকজনকে জানান, তিনজন মিলে রিকশা-ভ্যান নিয়ে মসজিদের সৌরবিদ্যুতের প্যানেলের ব্যাটারি চুরি করতে এসেছিলেন।

মসজিদ কমিটির সদস্য নাজমুল হুদা জানান, টের পেয়ে যাওয়ায় মসজিদের ব্যাটারি চুরি করতে পারেননি ওই তরুণ। পরে ৯৯৯–এ ফোন দেওয়া হয়। ওই রাতেই সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ এসে আটক তরুণকে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় কেউ থানায় কোনো অভিযোগ দেননি বলে জানান সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ না দেওয়ায় ওই তরুণকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গত বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। চুল কেটে দেওয়ার ভিডিও চোখে পড়েনি বলে দাবি করেন ওসি।

তরুণের চুল কেটে দেওয়া প্রসঙ্গে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শরীফ আল রাজীব প্রথম আলোকে বলেন, জোর করে চুল কেটে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। কোনো ব্যক্তি অন্যায় করলে তার জন্য আইন আছে; কিন্তু নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া অন্যায়। চুল কেটে দেওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে।