নাটোরে সংসদ সদস্য শফিকুলের সমর্থকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৬

নাটোর জেলার মানচিত্র
নাটোর জেলার মানচিত্র

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের সমর্থকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এক কাউন্সিলরসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং তিনজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যজন অজ্ঞাত স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে নাটোর শহরের হরিশপুর বাস টার্মিনালে। আহত ব্যক্তিরা হলেন নাটোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাসুদ রানা, আশিকুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, মো. মেজর, মো. রবিন ও রাশেদুল ইসলাম। এঁদের সবার বাড়ি শহরের চক বৈদ্যনাথ এলাকায়।

নাটোর থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাসুদ রানা ও রাশেদুল—উভয়ই সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহচর। কিন্তু বাফার সার গুদামসহ এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে উভয়ের মধ্যে কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব–সংঘাত চলছে। বুধবার দুপুরে কাউন্সিলর মাসুদ, জেলা যুবলীগের সভাপতি বাশিরুর রহমান খান ও সাবেক কাউন্সিলর মোস্তারুল আলম ও তাঁদের কর্মীরা হরিশপুর বাস টার্মিনালের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে রাশেদুল ও তাঁর সমর্থকেরা ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

সংঘর্ষে কাউন্সিলর মাসুদসহ তাঁর সমর্থক পাঁচজন আহত হন এবং রাশেদুলও আহত হন। রাশেদুল ছাড়া বাকিরা সবাই সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হলে চিকিৎসক জাহিদুল ও মাসুদকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রাশেদুল অজ্ঞাত স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহত কাউন্সিলর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি প্রতিহত করতে বাস টার্মিনালে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে রাশেদুল তাঁদের ওপর হামলা করেন। যদিও রাশেদুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। সবাই চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।