পুলিশের ওপর হামলার মামলায় তিন নৌ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব–১১
পুলিশের ওপর হামলার মামলায় তিন নৌ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব–১১

মুন্সিগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ৩ নৌ ডাকাত গ্রেপ্তার

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পুলিশের ওপর হামলার মামলায় তিন নৌ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা ও গাজীপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নৌ ডাকাত পিয়াসের বড় ভাই গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের রিপন সরকার (৪১), একই গ্রামের জামিল উদ্দিন মাসুম (৪০) ও গুয়াগাছিয়া গ্রামের হারুন মেম্বার (৪৭)।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলম আজাদ আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার রিপনের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্রসহ ৩০-৩৫টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া হারুন ও মাসুমের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁরা র‍্যাবের হেফাজতে রয়েছেন। রাতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন মেঘনা নদী ও শাখা নদীতে অবৈধ বালু ব্যবসা ও নৌযানে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন নয়ন, পিয়াস, রিপন ও লালু বাহিনীর সদস্যরা। গত এক বছরে ডাকাতদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে কয়েকজন নিহতও হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত শুক্রবার জামালপুর গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়। সোমবার ডাকাতেরা হামলা চালান। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলি চলে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা মতলবের দিকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম খান নৌ ডাকাত পিয়াসকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এদিকে পুলিশের সঙ্গে ডাকাত দলের গোলাগুলির ঘটনায় ভয়ে গ্রাম ছেড়ে যাওয়া পরিবারগুলো এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। স্থানীয় লোকজন চান, ক্যাম্পটি স্থায়ীভাবে চালু রাখা হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, একবার যে ক্যাম্প চালু হয়েছে, সেটি আর বন্ধ হবে না। মানুষ যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, সে ব্যবস্থাই করা হবে।